সেলুনে চুল কাটতে গিয়ে গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বহুল আলোচিত পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম হত্যা মামলার পলাতক আসামি রাজীব মিস্ত্রি (৪৫)কে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার একটি সেলুনে চুল কাটানোর সময় বৃহস্পতিবার রাতে তাকে আটক করা হয়।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গোপন নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছিল। কুষ্টিয়া ক্যাম্পের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৫ এর সহযোগিতায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মুহূর্তের ওই অভিযানে তিনি পালানোর কোনো সুযোগ পাননি।

গ্রেপ্তার রাজীব মিস্ত্রি দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর এলাকার দারোগার মোড় গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় কাঠমিস্ত্রি। মামলার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানা যায়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর রাজীব প্রথমে পাবনা জেলায় অবস্থান করেন। পরে তিনি রাজশাহীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তিনি নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করতেন এবং একাধিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতেন। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ না করে অন্য ব্যক্তির ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন, যাতে তার অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যায় তিনি গোদাগাড়ী থানার একটি স্থানীয় সেলুনে চুল কাটাতে যান। সেই তথ্য পাওয়ার পরই দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, তিনি মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের একজন এবং দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারিতে ছিলেন।

এর আগে একই মামলায় আরও তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফলে এ পর্যন্ত মোট চারজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর এলাকায় পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্মীয় বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

ঘটনার দুই দিন পর নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। অভিযোগে স্থানীয় এক রাজনৈতিক কর্মীকেও প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি ঘটনার পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হয়।

মামলার অগ্রগতির সংক্ষিপ্ত চিত্র

বিষয়তথ্য
মামলার ধরনহত্যা মামলা
ঘটনার তারিখ১১ এপ্রিল
মামলা দায়ের১৩ এপ্রিল
প্রধান অভিযুক্তস্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী
মোট গ্রেপ্তার৪ জন
অজ্ঞাত আসামিপ্রায় ১৮০ থেকে ২০০ জন
সর্বশেষ গ্রেপ্তাররাজীব মিস্ত্রি

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।