যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পা বে এলাকায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন প্রমাণ একত্র করে জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন।
জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ এপ্রিল টাম্পা বে এলাকার একটি সেতুর নিচ থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার দিনই সন্দেহভাজন হিসেবে হিশাম আবুঘরবেহ নামের এক মার্কিন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি লিমনের রুমমেট ছিলেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ২৬ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর দক্ষিণ পাশে একটি খণ্ডিত মরদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়। এটি লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের একটি জলাশয় থেকে পাওয়া যায়।
পরে একটি ফৌজদারি মামলার হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, উদ্ধার হওয়া মরদেহের অংশে থাকা পোশাকের সঙ্গে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির শেষবার দেখা যাওয়ার সময়কার পোশাকের মিল পাওয়া গেছে। ওই ভিডিও ফুটেজে তাকে শেষবার যে ধরনের পোশাকে দেখা যায়, উদ্ধারকৃত মরদেহের অংশের পোশাকের ধরনও একই রকম বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে এখন পর্যন্ত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা হয়নি। পুলিশ বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে বলে তদন্ত সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহের বিরুদ্ধে দুটি প্রথম ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত ইতিমধ্যে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| তারিখ | ঘটনা | স্থান |
|---|---|---|
| ১৬ এপ্রিল | লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ | ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র |
| ১৮ এপ্রিল | লিমনের মরদেহ উদ্ধার | টাম্পা বে, সেতুর নিচ |
| ১৮ এপ্রিল | সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার | স্থানীয় এলাকা |
| ২৬ এপ্রিল | খণ্ডিত মরদেহের অংশ উদ্ধার | হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর দক্ষিণে জলাশয় |
| পরবর্তী সময় | পোশাক মিলিয়ে শনাক্তের সম্ভাবনা পরীক্ষা | তদন্তাধীন |
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি হলফনামা অনুযায়ী, সেতুর দক্ষিণে উদ্ধার হওয়া মরদেহের অংশের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজে নাহিদা সুলতানার শেষ উপস্থিতির সময়কার পোশাকের মিল পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা এই তথ্যকে প্রমাণ বিশ্লেষণের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বর্তমানে তদন্তকারী সংস্থা বিভিন্ন ভৌত প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র নির্ধারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।