পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং অস্ত্র মেরামত ও তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গোপনে অস্ত্র সংরক্ষণ, মেরামত, তৈরি এবং ক্রয়–বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দুপুরে পাবনার কুমিল্লী গ্রামে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন আফজাল হোসেন (৬০) পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
তল্লাশিতে পাওয়া যায় একটি একনলা আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি বিদেশি হ্যান্ডগান এবং চার রাউন্ড গুলি। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়, যা অস্ত্র তৈরি ও মেরামতের কাজে ব্যবহার করা হতো বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পরবর্তীতে শহরের পৌর এলাকার রূপকথা সড়কের বোরহান মার্কেটে আফজাল হোসেনের একটি দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অস্ত্র তৈরির জন্য ব্যবহৃত আরও বহু সরঞ্জাম, গুলি ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি ছিদ্র করার যন্ত্রসহ বিভিন্ন ধাতব যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়, যা দিয়ে অবৈধভাবে অস্ত্র মেরামত ও নতুন অস্ত্র তৈরি করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফজাল হোসেন উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও যন্ত্রাংশের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। যদিও তার কাছে থাকা একটি ব্যবসায়িক লাইসেন্সে সেলাই মেশিন ও হ্যান্ডগান মেরামতের উল্লেখ ছিল, বাস্তবে তিনি অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্য ও মেরামতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় আটক তিনজনকে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়েরের পর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য দুইজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের ধারণা, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা এই চক্রটি এলাকায় অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ ও মজুদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বিবরণ নিচে দেওয়া হলো—
| ক্রম | উদ্ধার সামগ্রী | পরিমাণ বা বিবরণ |
|---|---|---|
| ১ | একনলা আগ্নেয়াস্ত্র | ১টি |
| ২ | বিদেশি হ্যান্ডগান | ২টি |
| ৩ | গুলি | ৪ রাউন্ড |
| ৪ | গুলি ছোড়ার পিন | একাধিক |
| ৫ | স্প্রিং ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ | বিভিন্ন |
| ৬ | আগ্নেয়াস্ত্রের খোসা ও নল | একাধিক |
| ৭ | ধাতব গুলির খোসা | বিভিন্ন |
| ৮ | ছিদ্র করার যন্ত্র | ১টি |
অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। তদন্ত শেষে এই চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
