সাভার-আশুলিয়ায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ

দেশের শিল্প ও আবাসিক গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার সকাল থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ সময়ে পাইপলাইন মেরামত, সংযোগ ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চলবে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, আবাসিক এলাকা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান—সব ধরনের গ্রাহকই গ্যাস সেবা থেকে সাময়িকভাবে বঞ্চিত থাকবেন। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল ও রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্যাস বন্ধ থাকা প্রধান এলাকা

নিম্নে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকা গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে শ্রেণিবদ্ধভাবে উপস্থাপন করা হলো—

শ্রেণিঅন্তর্ভুক্ত এলাকা
শিল্প এলাকাঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা, বেক্সিমকো শিল্প কমপ্লেক্স, মালঞ্চ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গাজীরচট শিল্পাঞ্চল
আবাসিক ও নগর এলাকাসাভার টাউন, নবীনগর, চন্দ্রা, কাশিমপুর, শ্রীপুর, হাজী মার্কেট, ব্যাংক টাউন
বিস্তৃত সড়ক ও অঞ্চলআশুলিয়া টিবিএস থেকে বাইপাইল পর্যন্ত উভয় পাশ, দেওয়ান ইদ্রিস সড়ক এলাকা
ক্যান্টনমেন্ট ও সংবেদনশীল এলাকাসাভার ক্যান্টনমেন্ট, সাভার রেডিও কলোনী
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাডলাইল, কলমা, দোসাইদ, কুমকুমারী, আক্রান, চারাবাগ, বড় আশুলিয়া, টঙ্গাবাড়ি, কাঠগড়া, জিরাবো, নয়াপাড়া, নয়ারহাট, বলিভদ্রপুর, পল্লীবিদ্যুত, ডেন্ডারবর, ভাদাইল, লতিফপুর, মানিকগঞ্জ সংলগ্ন এলাকা

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার নিরবচ্ছিন্নতা ও নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। পাইপলাইনে যেকোনো ঝুঁকি বা লিকেজ প্রতিরোধের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে এ ধরনের কাজ করা হয়।

এদিকে সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে গ্রাহকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গ্যাস ব্যবহারের পরিকল্পনা সমন্বয় করে নিতে এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিল্প উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এমন দীর্ঘ সময়ের গ্যাস বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন রান্নাবান্না ও উৎপাদন কার্যক্রমে কিছুটা অসুবিধা হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের স্বার্থে তারা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।