ময়মনসিংহ নগরের শম্ভুগঞ্জ এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় লরি ও যাত্রীবাহী অটোরিকশার (স্থানীয়ভাবে মাহিন্দ্রা নামে পরিচিত) মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা আঞ্চলিক মহাসড়কের স্বপ্নার মোড় এলাকায় ব্র্যাক স্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রাটি ময়মনসিংহ শহর থেকে নেত্রকোনার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে শম্ভুগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী লরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই এক শিশুসহ এক নারী যাত্রী প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পরপরই লরির চালক গাড়ি ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
দুর্ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | শম্ভুগঞ্জ, ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা মহাসড়ক |
| সময় | মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট |
| যানবাহন | লরি ও যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রা (অটোরিকশা) |
| নিহত | ২ জন (একজন শিশু ও একজন নারী) |
| আহত | ৩ জন |
| চালকের অবস্থা | লরি ফেলে পালিয়ে যায় |
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত ও আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন জানান, নিহত শিশুটির বয়স আনুমানিক ১৮ মাস। অপর নিহত নারী যাত্রী ছিলেন, যার বয়স প্রায় ৪৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় শিশুটির মা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার একটি হাত ভেঙে গেছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লরিটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আসছিল এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মাহিন্দ্রাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের শব্দে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কে প্রায়ই ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে শম্ভুগঞ্জ ও আশপাশের অংশে সড়ক তুলনামূলক সংকীর্ণ হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেশি।
সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক মহাসড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা, অতিরিক্ত গতিতে ভারী যান চলাচল এবং চালকদের নিয়ম না মানার প্রবণতা এ ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ফলে ক্লান্তি ও অসতর্কতাও দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করছেন এবং আহতদের অবস্থা নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত লরি ও চালককে শনাক্ত করতে অ
