ইরানি জাহাজ অবরোধ ভেঙে বন্দরে

ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ মার্কিন অবরোধ ভেঙে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বন্দরে প্রবেশ করেছে। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সশস্ত্র সদস্যদের একাধিক সতর্কবার্তা ও হুমকির পরও ইরানের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সহায়তায় তেলবাহী জাহাজটি “সিলিকা সিটি” আরব সাগর থেকে গতকাল রাতে ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর কয়েক ঘণ্টা আগে এটি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বন্দরে নোঙর করে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো তথ্য অনুযায়ী, পুরো কার্যক্রমটি সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হয় এবং জাহাজটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে বন্দরে পৌঁছায়। তবে এই ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) পক্ষ থেকে গতকাল এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বাহিনী মোট ২৭টি জাহাজকে তাদের পথ পরিবর্তন করতে বা ইরানের বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইরানকে সহায়তার অভিযোগে “এম/টি টিফানি” নামের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে পেন্টাগনের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানানো হয়। পেন্টাগন বর্তমানে প্রশাসনিকভাবে “যুদ্ধ মন্ত্রণালয়” নামে উল্লেখ করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশকে সহায়তাকারী জাহাজগুলোর চলাচল প্রতিরোধ করাই এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

নিচে ঘটনাগুলোর ধারাবাহিক সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হলো—

সময়/তারিখঘটনাসংশ্লিষ্ট পক্ষবিবরণ
গতকাল রাতজাহাজ জলসীমায় প্রবেশইরান, তেলবাহী জাহাজ সিলিকা সিটিআরব সাগর থেকে ইরানের জলসীমায় প্রবেশ
কয়েক ঘণ্টা আগেবন্দরে নোঙরইরানি নৌ ও সেনাবাহিনীদক্ষিণাঞ্চলের বন্দরে জাহাজ নোঙর করে
গতকালমার্কিন বিবৃতিযুক্তরাষ্ট্র সেন্টকম২৭টি জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করার দাবি
২০ এপ্রিল সোমবার রাতট্যাঙ্কার জব্দমার্কিন বাহিনীএম/টি টিফানি জব্দ, পেন্টাগনের নির্দেশে অভিযান

ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি মার্কিন চাপ ও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এ অঞ্চলে সামুদ্রিক চলাচল, অবরোধ ও জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই প্রেক্ষাপটে নতুন করে পরিস্থিতিকে সামনে নিয়ে এসেছে।