
বাংলা সংগীতের ইতিহাসে এক অনন্য স্রষ্টা ও বহুমাত্রিক প্রতিভার নাম লাকী আখান্দ। আজ তাঁর নবম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৭ সালের এই দিনে দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তবে তাঁর সুর, সংগীতচেতনা ও সৃষ্টিশীলতা আজও বাংলা আধুনিক গানের জগতে গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক ও জীবন্ত।
লাকী আখান্দ ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই সংগীতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে পারিবারিক পরিবেশে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি বাবার কাছ থেকে সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর প্রতিভার ঝলক দেখা যায় রেডিও ও টেলিভিশনের শিশু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে, যেখানে তাঁর উপস্থিতি শ্রোতা ও দর্শকদের মুগ্ধ করত।
খুব অল্প বয়সেই তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সংগীত জগতে কাজ করার সুযোগ পান। মাত্র কিশোর বয়সে তিনি একটি আন্তর্জাতিক রেকর্ড প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সুরকার হিসেবে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে সংগীত পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিরল দক্ষতার পরিচয় দেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় সম্প্রচার সংস্থায় সংগীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন, যা তাঁর পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৮৪ সালে তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়, যা বাংলা আধুনিক গানের ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করে। এই অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি একক শিল্পী ও সুরকার হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। পাশাপাশি তিনি একটি জনপ্রিয় ব্যান্ড দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা তৎকালীন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
লাকী আখান্দ শুধু নিজের কণ্ঠে গান গেয়েই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং অন্য শিল্পীদের জন্য অসংখ্য কালজয়ী গান সৃষ্টি করেছেন। তাঁর সুরে গাওয়া গানগুলো আজও বিভিন্ন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
| সময়কাল | ঘটনা |
|---|---|
| ১৯৫৬ | ঢাকায় জন্মগ্রহণ |
| শৈশব | বাবার কাছে সংগীতে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ |
| শৈশবকাল | রেডিও ও টেলিভিশনে শিশু শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ |
| কিশোর বয়স | আন্তর্জাতিক রেকর্ড প্রতিষ্ঠানে সুরকার হিসেবে কাজ |
| পরবর্তী সময় | সংগীত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন |
| ১৯৮৪ | প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশ |
| পরবর্তী সময় | জাতীয় সম্প্রচার সংস্থায় সংগীত পরিচালক |
| ২০১৭ | মৃত্যুবরণ |
তাঁর অসংখ্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে “এই নীল মনিহার”, “আবার এলো যে সন্ধ্যা”, “আমায় ডেকো না”, “আগে যদি জানতাম” এবং “হৃদয় আমার”। এসব গান শুধু জনপ্রিয়তাই অর্জন করেনি, বরং বাংলা গানের আবেগ ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
অন্য শিল্পীদের জন্যও তিনি ছিলেন এক অনন্য স্রষ্টা। তাঁর সুরে কণ্ঠ দিয়েছেন বহু জনপ্রিয় শিল্পী, যাদের গান আজও শ্রোতাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে প্রেম, বিরহ ও মানবিক অনুভূতির প্রকাশে তাঁর সুর ছিল অসাধারণ।
লাকী আখান্দের সৃষ্টিশীলতা, সংগীতবোধ এবং আধুনিক গানের বিকাশে তাঁর অবদান বাংলা সংগীতকে একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর সংগীতচর্চা আজও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
> তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর হাত-পা ভাঙলেন শ্রমিক দল নেতা
> আইসিসি র্যাংকিং: নাসুমের বড় লাফ, হৃদয় ও সাইফের উন্নতি
> গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন না হলে বড় ভ্রমণ ধকলের মুখে ব্রাজিল
> বাংলাদেশ বিশ্বকাপে বাঁচে: আমাদের ফুটবল উন্মাদনা নিয়ে ফিফার পোস্ট
> সাবেক এমপি ফজলে করিমকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির
> পাচার হওয়া খেলাপি ঋণ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ সরকারের
> গুজব ঠেকাতে সাইবার আইন আরও কঠোর করার কথা ভাবছে সরকার
> মেহেন্দীগঞ্জে দোকান নির্মাণ বিরোধে ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা
> ব্র্যাকে রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার পদে নিয়োগ, আবেদনের সুযোগ ৪ জুলাই পর্যন্ত
> মঙ্গল অভিযানে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সকে টেক্কা দিল রিলেটিভিটি স্পেস
> হাম পরিস্থিতি: শিশু মৃত্যু উদ্বেগ বাড়ছে
> মার্কিন সাহায্য ছাড়া কি রক্ষা পাবে ইসরায়েলের অস্তিত্ব?
> প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক সংকটে সরকারের আপাত সমাধান পরিকল্পনা
> ৪ বছর পর উইম্বলডন একক কোর্টে সেরেনা উইলিয়ামস
> কারওয়ান বাজার ক্যামেরা গুজব খণ্ডন
> উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি
> সদস্য পরিবর্তনের মধ্যেই মেকানিক্সের অ্যালবাম
> শিবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন প্রস্তাব বিতর্কে
> ইংল্যান্ডে ট্রেন সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ৯০
> মার্কিন প্রেসিডেন্ট মরিয়া হয়ে চুক্তি করেছেন দাবি খামেনির
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য