চারঘাটে ট্রেনে কাটা দুইজন নিহত

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় পৃথক দুইটি ট্রেন দুর্ঘটনায় এক অজ্ঞাতনামা নারীসহ দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে। এক দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলো স্থানীয় জনমনে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনসচেতনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে। উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের হলিদাগাছী রেলগেট এলাকায় রাজশাহী থেকে খুলনাগামী একটি আন্তঃনগর ট্রেন আসার সময় প্রায় ৩৫ বছর বয়সী এক নারী হঠাৎ ট্রেনের সামনে চলে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কোনো সতর্কতা ছাড়াই ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং মরদেহ মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যাজনিত ঘটনা হতে পারে।

এর আগের দিন সোমবার রাতে একই উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের হাবিবপুর কালাবিপাড়া এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনায় সোহাগ নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবক ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন। তিনি স্থানীয় এক কৃষক পরিবারের সন্তান। দুর্ঘটনায় তার শরীরের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। ফলে ট্রেনের গতিপথ ও বিপদের সংকেত বুঝতে ব্যর্থ হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে উভয় ঘটনায় অসতর্কতা ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণই প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। রেললাইন এলাকায় অযথা চলাচল এবং অসচেতনতা এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

নিচে দুটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো—

বিষয়অজ্ঞাতনামা নারীসোহাগ (২৫)
ঘটনার সময়মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটসোমবার রাত
স্থানহলিদাগাছী রেলগেটহাবিবপুর কালাবিপাড়া
সম্ভাব্য কারণআত্মহত্যা (প্রাথমিক ধারণা)নেশাজনিত অসতর্কতা
শারীরিক অবস্থাদেহ মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষতএকটি পা বিচ্ছিন্ন
পরিচয়অজ্ঞাতস্থানীয় বাসিন্দা
পরবর্তী ব্যবস্থামরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর প্রস্তুতিমরদেহ দাফন সম্পন্ন

স্থানীয়দের মতে, রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত সুরক্ষা বেষ্টনী, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় অনেকেই রেলপথকে চলাচলের শর্টকাট হিসেবে ব্যবহার করেন, যা প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে।

একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। দুইটি পৃথক মৃত্যুর ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—রেললাইনের সামান্য অসতর্কতাও হতে পারে চরম ও অপরিবর্তনীয় পরিণতির কারণ।