বগুড়ায় আদালত প্রাঙ্গণে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া আদালত ভবন থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় একাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।
ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা মূলত আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জামিননামা দ্রুততম সময়ে কারাগারে পাঠানোর একটি আধুনিক ডিজিটাল প্রক্রিয়া। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কাগজপত্রভিত্তিক দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনা এবং বিচারপ্রার্থীদের সময় ও ভোগান্তি হ্রাস করাই মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার উদ্দেশ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বগুড়ার পাশাপাশি ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়া জেলার আদালতেও একই সময়ে এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ফলে এসব অঞ্চলের বিচারপ্রক্রিয়ায় জামিন সংক্রান্ত কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের ফলক উন্মোচন করেন। পরে তিনি সার্কিট হাউস থেকে হেঁটে বগুড়া জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে পৌঁছান। সকাল ১০টায় তার গাড়িবহর বগুড়া সার্কিট হাউসে এসে পৌঁছায় বলে জানা যায়।
বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল বাসেদ জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে জামিননামা দাখিল এবং কারাগার থেকে মুক্তির প্রক্রিয়ায় অনেক সময় বিভিন্ন প্রশাসনিক ধাপের কারণে বিলম্ব ঘটে। এতে বিচারপ্রার্থীদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থা সেই প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও সহজ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিচে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম চালু হওয়া জেলার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| জেলার নাম | কার্যক্রম শুরুর অবস্থান |
|---|---|
| বগুড়া | বগুড়া আদালত ভবন |
| ঝিনাইদহ | জেলা আদালত |
| যশোর | জেলা আদালত |
| মাগুরা | জেলা আদালত |
| রাজশাহী | জেলা আদালত |
| নাটোর | জেলা আদালত |
| কুষ্টিয়া | জেলা আদালত |
এই কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর বিচার প্রশাসনে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের একটি নতুন ধাপ যুক্ত হলো বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে এবং জামিনসংক্রান্ত কাজের গতি আরও উন্নত হবে।
