মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের সন্দেহকে কেন্দ্র করে এক নারীর ওপর গ্রাম্য সালিশের নামে শারীরিক নির্যাতন এবং পরবর্তীতে তার আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে সালিশের নামে বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার উত্তর কাশাদহ গ্রামে। নিহত নাজা আক্তার (২৫), এক সন্তানের জননী, পহেলা বৈশাখের দিন স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে বাইরে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক সন্দেহের মুখে পড়েন। এরপর গত শুক্রবার রাতে তার বাবার বাড়িতে একটি গ্রাম্য সালিশ বসানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, সালিশ চলাকালে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই নাজা আক্তার ও জাকির হোসেন নামের ওই যুবককে জুতা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একই সময় তাদের চড় ও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি কেউ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় আসে।
পরদিন শনিবার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নাজা আক্তারকে কয়েকজন ব্যক্তি হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বলা হয়, আবার সালিশ বসিয়ে তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। এই মানসিক চাপ ও সামাজিক অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি নিজ ঘরে ফিরে গোসল করেন এবং ভেজা কাপড়েই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
রবিবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়। ঘটনার পর শিবালয় থানা প্রশাসন তদন্ত শুরু করে এবং সালিশে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মোট এগারো জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, সালিশের নামে তার মেয়েকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং মিথ্যা সন্দেহের ভিত্তিতে অপমান করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, কোনো ধরনের নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই শাস্তিমূলক আচরণ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে আত্মহত্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিম্নে ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | উত্তর কাশাদহ গ্রাম, শিবালয়, মানিকগঞ্জ |
| ভুক্তভোগী | নাজা আক্তার (২৫), গৃহবধূ |
| অভিযোগের কারণ | প্রেমের সম্পর্কের সন্দেহ |
| ঘটনার ধরণ | গ্রাম্য সালিশে শারীরিক নির্যাতন |
| পরবর্তী ঘটনা | আত্মহত্যা (ফাঁস দিয়ে) |
| আইনগত পদক্ষেপ | তিনজন গ্রেপ্তার, মামলা দায়ের |
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সালিশের নামে এমন সহিংসতা পূর্বেও এলাকায় ঘটেছে, তবে এই ঘটনায় একজন নারীর মৃত্যু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার ধারণ করেছে। প্রশাসন বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
