ভুয়া গোয়েন্দা পরিচয়ে গুলিবর্ষণ ঘটনা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ভুয়া গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে এক ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা এবং পরে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে এক সন্দেহভাজনকে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন, পরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটার দিকে ফতুল্লার কুতুবপুর পশ্চিম রসুলপুর ভাঙ্গারপুল এলাকায়। সেখানে সুমন মিয়া নামের এক ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ীর দোকানের সামনে এ সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার মূল সূত্রপাত কয়েক দিন আগের একটি আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে। দুই দিন আগে আটক হওয়া শামীম ওরফে জুয়েল নামের ব্যক্তি সুমনের দোকান থেকে প্রায় দুই হাজার টাকার ফ্লেক্সিলোড গ্রহণ করেন। তবে তিনি তখন অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে দোকানদার সুমন পাওনা টাকা না পাওয়া পর্যন্ত তাকে দোকানে আটকে রাখেন এবং পরে টাকা পরিশোধের পর ছেড়ে দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রতিশোধমূলক পরিকল্পনা করা হয় বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।

রবিবার রাতে দুটি মোটরসাইকেলে করে শামীমসহ চার থেকে পাঁচজনের একটি দল দোকানের সামনে আসে। তারা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে সুমনকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন দুর্বৃত্তরা অস্ত্র বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং এক পর্যায়ে গুলি চালানোর হুমকি দেয়।

পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আশপাশের মানুষ একত্রিত হয়ে তাদের ঘিরে ফেলে। স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে দুর্বৃত্তরা পালানোর চেষ্টা করলে তারা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে চারজন পথচারী গুলিবিদ্ধ হন এবং এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সারসংক্ষেপ

বিষয়তথ্য
ঘটনার স্থানকুতুবপুর পশ্চিম রসুলপুর ভাঙ্গারপুল, ফতুল্লা
ঘটনার সময়রবিবার রাত সাড়ে এগারোটা
আহত সংখ্যাচারজন পথচারী
আটক ব্যক্তিএকজন, শামীম ওরফে জুয়েল
ব্যবহৃত অস্ত্রআগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ
উদ্ধারচারটি গুলির খোসা

গুলির শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জনতা ধাওয়া করে একজন অভিযুক্তকে ধরে ফেলে এবং তাকে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেয়। অন্য সহযোগীরা অস্ত্রসহ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে চারটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে সে কখনো নিজের নাম শামীম আবার কখনো জুয়েল বলে পরিচয় দিচ্ছে, যা তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ফতুল্লা থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। একই সঙ্গে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং মোটরসাইকেলের উৎস সম্পর্কেও তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।