অস্ট্রেলিয়ার সিডনি অপেরা হাউসের একটি অনুষ্ঠান কক্ষে ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাঙালির নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এটি এই স্থানে প্রথমবারের মতো আয়োজিত বাঙালিদের নববর্ষ উদ্যাপন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ঢোল, খোল, করতাল এবং নূপুরের শব্দে পুরো পরিবেশে বাঙালি সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বাইরে প্রশান্ত মহাসাগরের জলরাশি থাকলেও ভেতরের পরিবেশে বাংলা সাংস্কৃতিক উপাদান প্রতিফলিত হয়।
অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ একটি লিখিত বার্তায় প্রবাসী বাঙালিদের শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের সামাজিক কাঠামোতে বৈচিত্র্যের গুরুত্ব উল্লেখ করেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস মিনস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রবাসীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মতবিনিময় করেন। তিনি পরে সামাজিক মাধ্যমে জানান যে বাঙালি সম্প্রদায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক জীবনের একটি অংশ এবং অপেরা হাউসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সেই অংশগ্রহণের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানস্থলে প্রবাসী বাঙালিরা জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে শোভাযাত্রা করেন। উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে স্থানীয় ও বিদেশি দর্শকরা ছিলেন এবং তারা শোভাযাত্রা পর্যবেক্ষণ করেন।
অনুষ্ঠানে বাঙালি সংগীত ও নৃত্যের বিভিন্ন ধারা পরিবেশিত হয়। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকসংগীত এবং আধুনিক বাংলা গান উপস্থাপন করা হয়। সমবেত পরিবেশনায় “এসো হে বৈশাখ” গানটি পরিবেশিত হয়। এছাড়া “হায় রে মানুষ রঙিন ফানুস”, “আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে”, “হারানো দিনের কথা মনে পড়ে যায়”, “রেললাইন বহে সমান্তরাল” এবং নজরুলসংগীত “আলগা কর গো খোঁপার বাঁধন” পরিবেশিত হয়।
আয়োজক আবু রেজা আরেফিন জানান যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাঙালি সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি এবং শ্রুতিনাট্য পরিবেশনায় বিভিন্ন শিল্পী অংশ নেন। যন্ত্রীদল সংগীত পরিবেশনায় সহায়তা করে।
অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের তালিকা
| বিভাগ | অংশগ্রহণকারী |
|---|---|
| সংগীত পরিবেশনা | নাবিলা আফ্রিদি, লুবাবা ইসলাম, অমিয়া মতিন, মেহেদী হাসান, মামুন হাসান খান, রাশনান জামান, নিশাত সিদ্দিকী |
| নৃত্য পরিবেশনা | শ্রেয়সী দাস, অঙ্কিতা রায়, ঐশিতা রায়, স্বাগতা চ্যাটার্জী, দেবযানী পাল, পৌলোমী পান্ডা |
| আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্য | মলয় বিশ্বাস, নুসরাত জাহান, নাবিলা আফ্রিদি |
| যন্ত্রীদল | অভিজিৎ দান, সোহেল খান, রাশনান জামান, সাবিন ঘিসিং, সৃজিত দান |
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মিহির রায় বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন সাংস্কৃতিক উপস্থিতিকে সম্প্রসারিত করে। প্রবাসী মাবরুকা রহমান এই আয়োজনকে প্রবাসী বাঙালিদের সামাজিক স্বীকৃতির একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জন্মভূমি মিডিয়া, বাংলাদেশ লেডিস ক্লাব এবং বাংলাদেশ প্রেস মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতির ধারাবাহিক উপস্থিতি এবং সংগঠিত প্রচেষ্টার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
