ইমন হত্যায় ছয়জনের চারদিনের রিমান্ড

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এলেক্স ইমন নামের এক কিশোরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয় আসামির প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সাধন কুমার মণ্ডল আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাঈদ হোসেন শিমুল ওরফে আইয়ূষ, মো. তুহিন বিশ্বাস, মো. রাব্বি কাজী, মো. রানা, মো. সুমন ওরফে পাখির পোলা সুমন এবং মো. রাসেল ওরফে পিচ্চি রাসেল। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল বিকেলে মোহাম্মদপুর থানার বুদ্ধিজীবী সড়কের বাঁশবাড়ি এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলেক্স ইমনকে একা পেয়ে ঘিরে ফেলে। এরপর তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মা ফেরদৌসী বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট একুশ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও দশ থেকে বারো জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।

আসামিদের পরিচয় ও বয়স

ক্রমিকআসামির নামবয়স
সাঈদ হোসেন শিমুল ওরফে আইয়ূষ২৬
মো. তুহিন বিশ্বাস২৪
মো. রাব্বি কাজী২৫
মো. রানা৪০
মো. সুমন ওরফে পাখির পোলা সুমন২৬
মো. রাসেল ওরফে পিচ্চি রাসেল২৫

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হতে পারে। তবে ঘটনার পেছনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র ও পরিকল্পনার ধরন রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী চার দিন আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তকারীরা বলছেন, এই সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পরিকল্পনা, অংশগ্রহণকারী অন্যান্য সদস্যদের ভূমিকা এবং পলাতক আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

এদিকে এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তারা দ্রুত এসব গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।