রাজধানীর তুরাগ এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে পরিচালিত একটি মোবাইল চোরাচালান ও যন্ত্রাংশ ব্যবসা চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা-মতিঝিল বিভাগ। বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এবং মোবাইল মেরামত ও সংযোজনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে মোবাইল ফোন ও যন্ত্রাংশ আমদানি করে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে আসছিল।
গত রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তুরাগ থানাধীন রূপায়ণ সিটি গ্র্যান্ড ব্লকের একটি বহুতল ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শাহরিয়ার হাসান সরকার রাজা (২৬), মো. রনি মিয়া (২৪) এবং শ্রী নয়ন চন্দ্র সূত্রধর (১৯)—এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, অভিযান শেষে গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে ৪৪২টি মোবাইল ফোন, ৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা নগদ অর্থসহ বিপুল পরিমাণ মোবাইল পার্টস ও কারিগরি সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এসব সরঞ্জাম মোবাইল ফোন সংযোজন, মেরামত এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কাজে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিচে উদ্ধারকৃত সামগ্রীর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো—
| শ্রেণি | পরিমাণ/বিবরণ |
|---|---|
| মোবাইল ফোন | ৪৪২টি |
| নগদ অর্থ | ৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা |
| ল্যাপটপ | ৫টি |
| মোবাইল ডিসপ্লে | ৭৪০টি |
| ব্যাক কভার | ২,১৯০টি |
| চার্জার ক্যাবল | ৫৪০টি |
| মোবাইল ব্যাটারি | ১,০০০টি |
| খালি মোবাইল বক্স | ৩,৫০০টি |
| হেডফোন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ | বিপুল পরিমাণ |
| বিশেষ প্রযুক্তি সরঞ্জাম | আইএমইআই প্রিন্টার, স্পিড মিটার, হিট মেশিন ইত্যাদি |
ডিএমপি জানায়, চক্রটি চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মোবাইল ফোন ও যন্ত্রাংশ অবৈধভাবে আমদানি করত। এরপর শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সেগুলো ঢাকার বিভিন্ন মার্কেট, পাইকারি দোকান এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন যন্ত্রাংশ একত্র করে নতুন মোবাইল হিসেবে বাজারজাত করার অভিযোগও রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। তারা আরও জানায়, একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পণ্য আনা, গুদামজাত করা এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো। প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহার করে অনেক সময় মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে অবৈধ কার্যক্রম আড়াল করা হতো।
ডিএমপি কর্মকর্তারা জানান, এই ধরনের কার্যক্রম শুধু অবৈধ বাণিজ্য নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ফাঁকি এবং ভোক্তা প্রতারণার একটি বড় চক্র। নিম্নমানের ও পুনঃসংযোজিত মোবাইল বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন।
গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের অন্যান্য সদস্য ও আর্থিক নেটওয়ার্ক শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগ আরও জানিয়েছে, রাজধানীতে প্রযুক্তিপণ্য কেন্দ্রিক অবৈধ আমদানি ও বাজারজাতকরণ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে মোবাইল যন্ত্রাংশের আড়ালে শুল্ক ফাঁকি, জালিয়াতি এবং ভোক্তা প্রতারণা রোধে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে।
সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান রাজধানীতে সক্রিয় একটি বড় ও সুসংগঠিত চোরাচালান নেটওয়ার্কের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তদন্ত অগ্রসর হলে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও বড় এ
