গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতটি শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। এদের মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যুর কারণ হামে আক্রান্ত হওয়া হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে। বাকি পাঁচটি শিশুর মৃত্যু হামের উপসর্গ নিয়ে হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। একই সময়ে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭২৯ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ৮২ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে মোট ১ হাজার ৩৭১ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে।
Table of Contents
গত ২৪ ঘণ্টার সারসংক্ষেপ
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট মৃত্যু | ৭ জন |
| নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু | ২ জন |
| উপসর্গজনিত মৃত্যু | ৫ জন |
| মোট উপসর্গ দেখা দেওয়া শিশু | ১৩৭১ জন |
| হাসপাতালে ভর্তি | ৭২৯ জন |
| নিশ্চিত হাম শনাক্ত | ৮২ জন |
হামজনিত দুই মৃত্যুই ঢাকা বিভাগে ঘটেছে। অপরদিকে হামের উপসর্গে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন রাজশাহী বিভাগের।
বিভাগভিত্তিক সংক্রমণ ও ভর্তি পরিস্থিতি
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও শনাক্ত রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। ঢাকা বিভাগে ৭৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। রাজশাহী বিভাগে শনাক্ত হয়েছে ৪ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন। অন্যান্য বিভাগে এ সময়ে কোনো শনাক্ত রোগী পাওয়া যায়নি।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে সংখ্যা ২৭৪ জন। সবচেয়ে কম ভর্তি হয়েছে রংপুর বিভাগে ১১ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭ জন।
হাসপাতালে ভর্তি ও ছাড়পত্র
একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৭১৩ জন শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩০৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২ জন এবং চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ১০৩ জন করে রোগী হাসপাতাল ছেড়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি (১৫ মার্চ থেকে বর্তমান)
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
| বিষয় | মোট সংখ্যা |
|---|---|
| মোট মৃত্যুবরণ (হাম) | ৩০ জন |
| উপসর্গজনিত মৃত্যু | ১৫৬ জন |
| মোট উপসর্গ দেখা দেওয়া | ১৭,০২৪ জন |
| হাসপাতালে ভর্তি | ১০,৯৫৪ জন |
| নিশ্চিত হাম শনাক্ত | ২,৭২১ জন |
| সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র | ৮,৩৬৯ জন |
এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলমান পর্যবেক্ষণ ও হাসপাতালভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রতিদিনের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিভাগে সংক্রমণ ও ভর্তি রোগীর সংখ্যা ভিন্ন হলেও ঢাকা বিভাগে রোগীর চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
