ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ২৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৩ জন শিশু।
মৃত দুই শিশুর মধ্যে একজন হলো ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার বাসিন্দা হুমায়ুন মিয়ার ১০ মাস বয়সী পুত্র সাদেকুল। তাকে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়। ভর্তি করার প্রায় ২৫ মিনিটের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
অন্য শিশুটি ফুলপুর উপজেলার ৯ মাস বয়সী সোহান। তাকে ২২ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। দীর্ঘ চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই দুই শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত করার জন্য কোনো নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ২৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ১৭ মার্চ থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মোট ৩৯৭ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩১২ জন শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১২ জন শিশুর। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৩ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে নতুন করে ২৬ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হামের লক্ষণ নিয়ে শিশু ভর্তি, চিকিৎসা এবং ছাড়পত্র প্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রোগীদের পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
ভর্তি ও চিকিৎসা পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| ১৭ মার্চ থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মোট ভর্তি শিশু | ৩৯৭ জন |
| চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা শিশু | ৩১২ জন |
| বর্তমানে চিকিৎসাধীন শিশু | ৭৩ জন |
| মোট মৃত্যু | ১২ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি শিশু | ২৬ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু | ২ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ছাড়পত্রপ্রাপ্ত শিশু | ২৮ জন |
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে হামের লক্ষণ নিয়ে শিশুর ভর্তি অব্যাহত রয়েছে এবং একই সঙ্গে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। মৃত্যুর ঘটনা এবং নতুন ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা একসঙ্গে পরিস্থিতিকে চলমান চিকিৎসা ব্যবস্থার অধীনে পর্যবেক্ষণের মধ্যে রেখেছে।
