বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ভারতের খ্যাতনামা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো হসপিটাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের উদ্যোগে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যার প্রথম ধাপ হিসেবে দেশের চিকিৎসকদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ইঙ্গিতও দিয়েছে তারা।
সম্প্রতি ঢাকায় সফরকালে অ্যাপোলো হাসপাতালের চেন্নাই অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট (লিভার অ্যানেসথেটিস্ট ও ইনটেনসিভিস্ট) ডা. ইলাঙ্কুমারন কালিয়ামুর্তি এ উদ্যোগের কথা জানান। সফরের সময় তিনি ও তাঁর প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্য খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি ও সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
ডা. কালিয়ামুর্তির ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাপোলো বাংলাদেশে সরাসরি হাসপাতাল স্থাপনের পরিবর্তে প্রাথমিকভাবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চায়। এর আওতায় স্থানীয় চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা নিজ দেশেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা প্রদান করতে সক্ষম হন। বিশেষ করে ক্যানসার চিকিৎসা, রোবোটিক সার্জারি, কিডনি ও যকৃত প্রতিস্থাপনের মতো জটিল ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে।
বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি রোগী ভারতে যান, যার বড় অংশই চেন্নাইমুখী। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে দেশেই উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অ্যাপোলো হসপিটাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ভারতের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। চেন্নাইভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটির অধীনে বা ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে ৭১টি হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে প্রায় ১০ হাজার শয্যা বিদ্যমান। শুধু ভারত নয়, সমগ্র এশিয়াতেই এটি একটি অন্যতম বৃহৎ হাসপাতাল নেটওয়ার্ক হিসেবে বিবেচিত।
প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় হাসপাতালগুলোকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে অংশীদারিত্বের ধরন ও কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও স্বাস্থ্য খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন হবে, বিদেশমুখী রোগীর সংখ্যা কমবে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নিম্নে সম্ভাব্য প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র | উদ্দেশ্য | সম্ভাব্য প্রভাব |
|---|---|---|
| ক্যানসার চিকিৎসা | আধুনিক থেরাপি ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধি | দেশে উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা সহজলভ্য |
| রোবোটিক সার্জারি | প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রোপচারে দক্ষতা | জটিল অপারেশনে সফলতার হার বৃদ্ধি |
| কিডনি প্রতিস্থাপন | ট্রান্সপ্লান্ট দক্ষতা উন্নয়ন | বিদেশ নির্ভরতা হ্রাস |
| যকৃত প্রতিস্থাপন | উন্নত সার্জিক্যাল প্রশিক্ষণ | গুরুতর রোগের চিকিৎসা দেশে সম্ভব |
সামগ্রিকভাবে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
