পাইপলাইনে বাড়ছে ভারতীয় ডিজেল সরবরাহ

বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা আরও জোরদার হয়েছে। সর্বশেষ চালানে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মাসেই আরও অন্তত ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যা আগামী ১৭ এপ্রিল নাগাদ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের অপারেশন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. রবিউল আলম জানান, শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে সর্বশেষ চালানের ডিজেল গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানের মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যার একটি চালান ইতোমধ্যে পৌঁছেছে।

এর আগে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেও একই পাইপলাইনের মাধ্যমে চারটি চালানে মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে এসেছে। ফলে বোঝা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে এই পাইপলাইনটি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এই পাইপলাইনের মাধ্যমে আসা ডিজেল প্রথমে পার্বতীপুরে অবস্থিত রিসিপ্ট টার্মিনালে জমা হয়। এরপর সেখান থেকে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হয়। আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেলপথে তেল পরিবহন করতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগত, কিন্তু পাইপলাইনের কারণে এখন তা অনেক দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্ভব হচ্ছে।

নিম্নে সাম্প্রতিক জ্বালানি আমদানির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—

সময়কালচালানের সংখ্যামোট আমদানি (মেট্রিক টন)
জানুয়ারি–মার্চ ২০২৬৪টি২২,০০০
এপ্রিল ২০২৬ (চলতি)৪টি (পরিকল্পিত)৪০,০০০
সর্বশেষ চালান১টি৮,০০০
আগামী চালান১টি৫,০০০ (প্রক্রিয়াধীন)

উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পটি দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এর মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশকে ডিজেল সরবরাহ করবে এবং প্রতি বছর ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানির সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী এই পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব। এমনকি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, এই পাইপলাইনের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করা গেলে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল আমদানি করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাইপলাইন কেবল পরিবহন সময় কমায়নি, বরং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, ব্যয়-সাশ্রয়ী এবং নিরবচ্ছিন্ন করেছে, যা দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।