দ্রুততম বারো হাজারে বাবর শীর্ষে

পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান বাবর আজম সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড ভেঙে তিনি দ্রুততম সময়ে বারো হাজার রান পূর্ণ করার কীর্তি গড়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

করাচিতে অনুষ্ঠিত একটি ঘরোয়া টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ম্যাচে এই মাইলফলকে পৌঁছান বাবর আজম। ম্যাচ শুরুর আগে তার প্রয়োজন ছিল মাত্র তেরো রান। ইনিংসের শুরু থেকেই তিনি স্বভাবসিদ্ধ শান্ত ও পরিকল্পিত ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি আক্রমণাত্মক শট খেলতে থাকেন। এক পর্যায়ে একটি ছক্কার মাধ্যমে তিনি বারো হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। পুরো কৃতিত্বটি তিনি অর্জন করেন তিনশ আটত্রিশ ইনিংসে, যা সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত দ্রুততম।

এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল ক্রিস গেইলের দখলে। তিনি তিনশ তেতাল্লিশ ইনিংসে বারো হাজার রান পূর্ণ করেছিলেন। অর্থাৎ বাবর আজম পাঁচ ইনিংস কম খেলেই নতুন ইতিহাস গড়লেন। এই অর্জন তাকে শুধুমাত্র পাকিস্তানের নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের অভিজাত ব্যাটসম্যানদের তালিকায় আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে।

সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে বারো হাজার বা তার বেশি রান করা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় আরও রয়েছেন ভারতের বিরাট কোহলি, ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার কাইরন পোলার্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের মতো তারকারা। তবে দ্রুততম সময়ে এই মাইলফলকে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এখন শীর্ষে অবস্থান করছেন বাবর আজম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে বড় রান করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ এখানে প্রতিটি বলেই আক্রমণাত্মক মানসিকতা বজায় রাখতে হয়, আবার উইকেট হারানোর ঝুঁকিও বেশি থাকে। এমন চাপের মধ্যেও বাবর আজমের ব্যাটিং স্থিরতা, শট নির্বাচন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার ক্ষমতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

পাকিস্তান সুপার লিগে নিয়মিত পারফরম্যান্স তার ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। বিভিন্ন মৌসুমে তিনি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে মাঝের ওভারে ইনিংস গুছিয়ে নিয়ে শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার দক্ষতা তাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

দ্রুততম বারো হাজার রানের পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো—

খেলোয়াড়ের নামইনিংস সংখ্যাঅর্জন
বাবর আজম৩৩৮দ্রুততম বারো হাজার রান
ক্রিস গেইল৩৪৩পূর্ববর্তী রেকর্ড

এই অর্জনের মাধ্যমে বাবর আজম কেবল একটি ব্যক্তিগত রেকর্ডই গড়েননি, বরং আধুনিক ক্রিকেটে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছেন। তার এই কীর্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।