নিকলীতে ইয়াবাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে নিজ বাড়ি থেকেই তাকে আটক করা হয়। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে। অভিযানের পর পুরো এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত নারীর নাম রওশন আরা বেগম, বয়স আনুমানিক পঞ্চাশ বছর। তিনি নিকলী উপজেলার গুরুই ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত মহব্বত আলীর স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত থেকে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, নোয়াগাঁও এলাকায় মাদক বাণিজ্য বিস্তার লাভ করছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর নিকলী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আরও অংশ নেন থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা ও সহকারী উপপরিদর্শকসহ একাধিক সদস্য। রাতের নির্দিষ্ট সময়ে হঠাৎ করে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হলে ঘরের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে মোট সাতশ বাহাত্তরটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে বাইশ হাজার পঞ্চাশ টাকা নগদ অর্থ এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, জব্দ করা নগদ অর্থ মাদক বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে। এসব অর্থের উৎস ও ব্যবহার নিয়েও তদন্ত চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, আটক রওশন আরা বেগম দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। এর আগেও তিনি মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তার মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে অচেনা লোকজনের যাতায়াত ছিল এবং রাতের বেলায় সন্দেহজনক কার্যক্রম লক্ষ্য করা যেত। তবে ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পেতেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মাদকবিরোধী চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি তার যোগাযোগ ও সরবরাহ চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

জব্দকৃত সামগ্রীর বিবরণ

ক্রমজব্দকৃত সামগ্রীপরিমাণ
ইয়াবা ট্যাবলেট৭৮২টি
নগদ অর্থ২২,০৫০ টাকা
মোবাইল ফোন১টি

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকায় সক্রিয় মাদক চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তবে পুরো চক্র নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।