ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ছাতিয়া এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে মিঠুন (২৯) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিঠুন ওই এলাকার কিসমত আলীর ছেলে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ ছাতিয়া এলাকায় একটি পূর্বঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওই সময় মিঠুনের নেতৃত্বে একটি পক্ষ সাবেক ইউপি সদস্য ডলি আক্তারের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই হামলায় ডলি আক্তার গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে মিঠুনকে আসামিদের মধ্যে তৃতীয় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই মামলাকে কেন্দ্র করেই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা ও প্রতিশোধমূলক মনোভাব বিরাজ করছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার রাতে মিঠুন ছাতিয়া এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে বেদম মারধর করা হয়। মারধরের ফলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং অচেতন অবস্থায় তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয় পথচারীরা তাকে দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরের দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা পাল্টা সংঘর্ষ না ঘটে। তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক ইউপি সদস্য ডলি আক্তারের ভাই এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য নান্নু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তাদের ঘটনার সঙ্গে কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নবাবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ববর্তী বিরোধ ও মামলার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নিহত মিঠুনের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা ছিল, যা পূর্ব বিরোধকে আরও জটিল করে তুলেছিল।
নিহতের পরিবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাদের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা লাশ গ্রহণসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় ব্যস্ত থাকায় কোনো মন্তব্য করেননি। তবে স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বিরোধ ও প্রতিশোধের সংস্কৃতি এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
এ ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা মত দিয়েছেন। পাশাপাশি সামাজিক ও স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ না নিলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ঘটনার সময়ক্রম
| সময় ও তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২৪ মার্চ | পূর্ব বিরোধের জেরে সাবেক ইউপি সদস্য ডলি আক্তারের ওপর হামলা ও গুরুতর আহত |
| ২৪ মার্চের পর | ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের, মিঠুনকে আসামি করা হয় |
| বৃহস্পতিবার রাত ১০টা | ছাতিয়া এলাকায় মিঠুনকে ধরে নিয়ে মারধর করা হয় |
| রাতের পর | গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় |
| পরে | অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার হাসপাতালে স্থানান্তর |
| ভোর | চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিঠুনের মৃত্যু ঘটে |
| ঘটনার পর | একজন ইউপি সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় |
