আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে চরম উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামি পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন এবং আদালত কক্ষ ত্যাগের সময় অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় শোনার পরপরই আদালত কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেন এবং পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আদালত প্রাঙ্গণে বের হওয়ার সময় কয়েকজন আসামি উচ্চস্বরে “জয় বাংলা” স্লোগান দেন এবং নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তারা অভিযোগ করেন, এই রায়ে তাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে এবং তারা ন্যায়বিচার পাননি। তাদের এই আচরণের কারণে কিছু সময়ের জন্য আদালত এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, তবে পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এর আগে ঘোষিত রায়ে দুইজন পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও একাধিক আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুইজন হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।
রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা মুহূর্তের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে আসামিদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
নিচে মামলার রায় সংক্রান্ত মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মামলার নাম | আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা |
| রায় ঘোষণার স্থান | আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল |
| রায় প্রদানকারী বেঞ্চ | বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল |
| মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত | ২ জন |
| যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত | ৩ জন |
| অন্যান্য কারাদণ্ডপ্রাপ্ত | বিভিন্ন মেয়াদে বাকি আসামিরা |
| ঘটনার সময় | রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণ |
এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তা মামলার গুরুত্ব ও আবেগঘন পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
