ঢামেক হাসপাতালে সংঘর্ষ তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কমিটি গঠন করা হয়েছে রাত পৌনে ৮টার সময়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।

কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন ডা. নাদিম আহমেদকে। কমিটিকে আগামী শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল পরিচালক জানিয়েছেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় দোষীদের সনাক্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মেডিকেল ফ্যাকাল্টির ডিনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে জমা দিতে হবে।”

সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটেছে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। ঢাবি উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র সানিম তীব্র অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পৌঁছান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার জন্য তিনটি ইনজেকশন প্রেসক্রাইব করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ইনজেকশন সরবরাহ শেষ হওয়ায় শিক্ষার্থীকে নির্দেশ দেওয়া হয় বাইরের ফার্মেসি থেকে ইনজেকশন সংগ্রহ করার জন্য। কিন্তু স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতেও প্রয়োজনীয় ইনজেকশন পাওয়া যায়নি। এর ফলে শিক্ষার্থী এবং তার সহপাঠীরা হতাশ ও উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে বাক্যালাপের উত্তেজনা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ হস্তক্ষেপ করেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট, সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিচের টেবিলে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

সূচকতথ্যমন্তব্য
ঘটনাঢাবি শিক্ষার্থী ও ঢামেক চিকিৎসক সংঘর্ষজরুরি বিভাগের তীব্র উত্তেজনার কারণে
সময়৮ এপ্রিল, ২০২৫ বিকেল ৫টাঘটনার সূত্রপাত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে
স্থানঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালজরুরি বিভাগ এবং আশপাশের ফার্মেসি
শিক্ষার্থীসানিম (ঢাবি উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ)২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র
চিকিৎসককর্তব্যরত চিকিৎসক ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারতিনটি ইনজেকশন প্রেসক্রাইব করা হয়
তদন্ত কমিটি৬ সদস্য, আহ্বায়ক ডা. নাদিম আহমেদপ্রতিবেদনের সময়সীমা: ১১ এপ্রিল সকাল ১০টা
উত্তেজনার কারণইনজেকশন অনুপলব্ধহাসপাতাল ও বাইরের ফার্মেসিতে ঘাটতি
প্রশাসনিক পদক্ষেপসীমিত জরুরি বিভাগ সচল, পুলিশ নিয়ন্ত্রণতদন্ত প্রতিবেদন না এলে ইন্টার্ন ডাক্তারদের কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাতের বৈঠকের পর জরুরি বিভাগ সীমিত পরিসরে সচল রাখা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন যথাসময়ে না এলে ঢামেক হাসপাতাল ইন্টার্ন ডাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন পূর্ণ কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সংক্ষেপে, ঢামেক হাসপাতালে শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকের মধ্যে সংঘর্ষ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতির প্রতিফলন। কমিটির তদন্ত এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।