রাজশাহীতে হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি

রাজশাহীতে হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুতে উদ্বেগজনক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনার পর হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃত শিশুদের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, গত একদিনে নতুন করে ২৩ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩৩ জন শিশু। এ সময় ১০ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “এপর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে রামেক হাসপাতালে মোট ৪৫২ জন শিশু ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৬ জন মারা গেছেন। এছাড়া সম্প্রতি একজন শিশু হাম পজিটিভ শনাক্ত হয়ে মারা গেছেন।”

ডা. শংকর আরও বলেন, শিশুদের হামের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এজন্য নবজাতককে মাতৃস্নেহের দুধ খাওয়ানো, ছয় মাসের পর পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়মতো টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকরা অভিভাবকদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, “জ্বর, ফুসকুড়ি, বমি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যাবশ্যক।”

নিচের টেবিলে রামেক হাসপাতালে হামের উপসর্গে শিশুদের সংক্রান্ত সাম্প্রতিক তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

সূচকসংখ্যা
মোট ভর্তি (হামের উপসর্গে)৪৫২ জন
মোট মৃত্যু৪৬ জন
বর্তমানে চিকিৎসাধীন১৩৩ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি২৩ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র প্রাপ্ত১০ জন
সাম্প্রতিক হাম পজিটিভ মৃত্যু১ জন

চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শিশুর খাদ্য, পরিচ্ছন্নতা এবং সময়মতো টিকাদান অপরিহার্য। এছাড়া অভিভাবকদের নিয়মিত শিশুদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা উচিত, বিশেষত যখন জ্বর বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

রাজশাহীতে হামের উপসর্গে শিশুদের মৃত্যুর এই বৃদ্ধি স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও পরিবারের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত চিকিৎসা, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিশুমৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।

এই প্রেক্ষাপটে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদেরও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে নতুন আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা প্রাপ্তি দ্রুত নিশ্চিত করা যায়।

মোট পড়া সংখ্যা অনুযায়ী, হাসপাতাল প্রশাসন এবং চিকিৎসকরা চিকিৎসার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দিচ্ছেন, যাতে হামের মতো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।