রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ৪০তম দিনে, তেহরান এবং অন্যান্য শহরে তীব্র ধ্বংসযজ্ঞের পর ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা পরবর্তী সময়ে তেহরানে অবিলম্বে ধ্বংসস্তূপ সরানো, রাস্তাঘাট খোলা এবং প্রাথমিক পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে।
বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি–র বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসি জানায়, তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট থেকে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে এবং যান চলাচলের জন্য সড়কগুলো পুনরায় খোলা হচ্ছে। তাছাড়া, কিছু এলাকায় ভবন পুনর্গঠনের জন্য মাটি সমান করা এবং ভিত্তি প্রস্তুতির কাজও শুরু হয়েছে।
তেহরানের একজন মেয়র জানিয়েছেন, “বর্তমানে আমরা প্রধানত ধ্বংসস্তূপ সরানো, জরুরি পরিষেবা পুনঃস্থাপন এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে পুনর্গঠন কার্যক্রম বিস্তৃত হবে।”
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাখলে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ চরম। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথ হামলায় ইরানের বিভিন্ন শহরের রেল যোগাযোগ, আবাসিক ভবন এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ইরানে ২২ হাজারের বেশি বেসামরিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ হাজারের বেশি আবাসিক ইউনিট।
নিচের টেবিলে যুদ্ধের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির কিছু মূল তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা | সংখ্যা | বিশেষ উল্লেখ |
|---|---|---|
| বেসামরিক ভবন | ২২,০০০+ | আবাসিক ১৭,০০০+ |
| বাণিজ্যিক স্থাপনা | ৪,০০০+ | ৫২৮ সম্পূর্ণ ধ্বংস |
| হাসপাতাল | ৩ | জরুরি সেবা প্রভাবিত |
| স্বাস্থ্যকেন্দ্র | ১৪ | স্বাস্থ্যসেবা সীমিত |
| রেড ক্রিসেন্ট কেন্দ্র | ২০ | মানবিক সহায়তা প্রভাবিত |
এছাড়া, পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সময়ে তেহরান এবং অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত শহরে জরুরি পুনর্গঠন, ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং মৌলিক সেবা পুনঃস্থাপন কার্যক্রমের উপর বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে। এই সময়কে যুদ্ধবিরতির “মানবিক বিরতি” হিসেবে ধরা যেতে পারে, যা অল্প সময়ে সীমিত হলেও নাগরিক জীবনের পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তেহরানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পুনর্গঠন কাজের এই প্রথম ধাপ আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও বিস্তৃত ও সুসংগঠিত রূপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
