ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের পুনরায় রিমান্ডে

রাজধানীর পল্টন থানায় বিএনপি কর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে আবারও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার তার তিন দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর বুধবার আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের উপপরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন নতুন করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি বলেন, আফজাল নাছের পুরনো সরকারের সহযোগী ও সুবিধাভোগী ছিলেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও তথ্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে তার আরও জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

অপরদিকে, আফজাল নাছেরের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। তিনি বলেন, মামলায় আসামির নাম থাকলেও সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। ইতিমধ্যেই তিন দিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে।

আফজাল নাছেরকে প্রথম গ্রেফতার করা হয় গত ২৯ মার্চ রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে। এর আগে দেলোয়ার হোসেন হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল। এরপর মকবুল হত্যা মামলায় রবিবার থেকে তিন দিনের রিমান্ডে রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে তিন দফায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হলো।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি চলাকালে ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান চালায়। অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বিএনপি কর্মী মকবুল হোসেন। পরে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান পল্টন থানায় স্বৈরাচার শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

আফজাল নাছেরের গ্রেফতারের ধারা

তারিখস্থান/ঘটনারিমান্ডের মেয়াদমামলা সংক্রান্ত মন্তব্য
২৯ মার্চ ২০২৬মিরপুর ডিওএইচএস এলাকাপ্রথম গ্রেফতার, ছয় দিনের রিমান্ড (দেলোয়ার হোসেন হত্যা)তদন্তের স্বার্থে দরকার
৩০ মার্চ ২০২৬আদালতপ্রথম রিমান্ড মঞ্জুরতদন্ত কর্মকর্তা আবেদন করেন
৬ এপ্রিল ২০২৬আদালততিন দিনের রিমান্ড (মকবুল হত্যা)মামলার তদন্তে প্রয়োজন
৮ এপ্রিল ২০২৬আদালতচার দিনের নতুন রিমান্ডঅতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ নিশ্চিত

এ ঘটনায় দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত তত্ত্বাবধান বাড়ানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা বলেছে, মামলার সকল প্রাসঙ্গিক তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য আফজাল নাছেরকে পুনরায় রিমান্ডে রাখা অপরিহার্য।