নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে স্থানীয় জনগণ বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক অবরোধ করেছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে নিয়ম ভঙ্গের দায়ে জরিমানা করা হয়।
ঘটনা সংক্ষিপ্ত বিবরণ
বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, বনপাড়ার পাটোয়ারী ফিলিং স্টেশন যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে গত সোমবার থেকে তেল বিক্রি বন্ধ রাখে। কিন্তু আজ বুধবার সকালে প্রশাসনকে জানানো ছাড়া তারা হঠাৎ তেল বিক্রি শুরু করে। ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে না পারায় তেল নিতে আসা স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাইলা জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের পরিস্থিতি বোঝার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিক্ষোভকারী জনতা মহাসড়ক ছাড়ে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ফিলিং স্টেশন সংক্রান্ত তথ্য
ভ্রাম্যমাণ আদালতের তদন্তে জানা যায়, পাটোয়ারী ফিলিং স্টেশনে মোট ৩ হাজার ৭০০ লিটার তেল মজুদ ছিল। কিন্তু ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ সরকারি বিধি না মেনে গোপনে ২ হাজার ৬০০ লিটার তেল বিক্রি করে। স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো এবং তত্ত্বাবধানে বিক্রি না করায় ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নিম্নের টেবিলে ফিলিং স্টেশনের তেলের বিবরণ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়বস্তু | পরিমাণ (লিটার) |
|---|---|
| মোট তেল মজুদ | ৩,৭০০ |
| গোপনে বিক্রি করা তেল | ২,৬০০ |
| বাকি তেল | ১,১০০ |
| জরিমানা | ৫০,০০০ টাকা |
প্রশাসনের বক্তব্য
ইউএনও লাইলা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ সরকারী নিয়ম অমান্য করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য জরিমানা করা হয়েছে। অবরোধকারী জনগণকে সরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে।”
এ ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণ উভয়ই সচেতন হয়েছেন যে, তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মাবলি মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি চালানো হবে এবং জনগণের নাগরিক অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় মোট তেল মজুদ ও বিক্রির হিসাবের মাধ্যমে দেখা যায়, স্থানীয় তেলের সংকট এবং তদনুযায়ী নিয়ন্ত্রণহীন বিক্রি বড় ধরনের অসুবিধার কারণ হতে পারে, যা সরকারের তৎপর নজরদারি ছাড়া মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
এই প্রতিবাদ এবং জরিমানা ঘটনাটি স্থানীয় জনগণ এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।
