পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত এক উত্তেজনাপূর্ণ কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে শেষ মুহূর্তের গোলে স্পোর্তিং লিসবনকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়েছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল। এই জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে সেমিফাইনালের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করল মিকেল আর্তেতার দল। ম্যাচজুড়ে বল দখল ও নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে জয় নিশ্চিত করতে হয় আর্সেনালকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্সেনাল নিজেদের পরিচিত পাসিং ফুটবল দিয়ে খেলায় আধিপত্য বিস্তার করে। তবে স্পোর্তিং লিসবন তাদের ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে। প্রথমার্ধে আর্সেনাল প্রায় ৭০ শতাংশ বল দখলে রাখলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে তারা বারবার ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে স্পোর্তিং তুলনামূলক কম বল পেয়ে প্রতিআক্রমণের মাধ্যমে আক্রমণ শানালেও আর্সেনালের রক্ষণভাগ তা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেয়।
প্রথমার্ধে দুই দলেরই আক্রমণভাগে ধার থাকলেও ফিনিশিংয়ের ঘাটতিতে গোলের দেখা মেলেনি। স্পোর্তিং লিসবন একটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি। আর্সেনালের গোলরক্ষক ডেভিড রায়া তখন থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনাল কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে, তবে পাশাপাশি আক্রমণ বাড়ানোর চেষ্টাও চালায়। মাঝমাঠে ধীরগতির নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা ম্যাচের গতি নিজেদের পক্ষে রাখার চেষ্টা করে। স্পোর্তিং লিসবনও সুযোগ খুঁজতে থাকে, কিন্তু আর্সেনালের সংগঠিত রক্ষণ তাদের বেশিরভাগ আক্রমণই প্রতিহত করে।
ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা কাই হাভার্টজ গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করেন। এই গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় এবং আর্সেনাল ১–০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
এই জয়ে আর্সেনাল শুধু তিন পয়েন্টই নয়, বরং মানসিকভাবে বড় সুবিধাও অর্জন করেছে, যা দ্বিতীয় লেগে তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে। এখন তারা নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় লেগ খেলবে, যেখানে সমর্থকদের সামনে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে।
ম্যাচ পরিসংখ্যান
| বিষয় | স্পোর্তিং লিসবন | আর্সেনাল |
|---|---|---|
| বল দখল | ৩০% | ৭০% |
| শট সংখ্যা | ৬ | ১১ |
| লক্ষ্যে শট | ১ | ৪ |
| গোল | ০ | ১ |
| গুরুত্বপূর্ণ সেভ | ৩ | ১ |
এই ম্যাচে আর্সেনালের ধৈর্য, কৌশল এবং শেষ মুহূর্তের কার্যকারিতাই তাদের জয় এনে দিয়েছে। স্পোর্তিং লিসবন ঘরের মাঠে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত তারা সফলতা পায়নি।
