রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ঘিরে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ভোর থেকেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে চাকরিজীবী, কৃষক, পরিবহন চালকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সময়, অর্থ ও কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিনই সকাল থেকে পাম্পের সামনে ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও সেচযন্ত্র নির্ভর মানুষের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। অনেকেই ভোর হওয়ার আগেই লাইনে দাঁড়ালেও নিশ্চিতভাবে তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না।
বেসরকারি সংস্থার মাঠকর্মী ফরিদা আক্তার জানান, তাঁর কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে মাঠে উপস্থিত থাকা জরুরি। কিন্তু জ্বালানি না পাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই সময়মতো অফিসে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে কর্মক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও মানসিক চাপ বেড়ে যাচ্ছে। একইভাবে পূজা সেন নামের আরেক কর্মী বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ছে, যা প্রতিষ্ঠানের কাজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবদুল খালেক জানান, আগের রাতে সরবরাহ আসার খবর শুনে ভোরে পাম্পে গিয়ে দেখেন তেল বিতরণ বন্ধ রয়েছে। পরে বারবার সময় পরিবর্তনের কারণে তাঁকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সানোয়ার হোসেন বলেন, নিয়মিত অফিসে দেরি হলে বেতন কর্তনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা তাঁর মতো মধ্যবিত্ত কর্মীদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
কৃষি খাতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কৃষক তুষার হোসেন জানান, টানা তিন দিন ধরে সেচের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে না পারায় জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হয়নি। সময়মতো পানি না পেলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরাসরি কৃষকের আয় ও খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগের রাতে সরবরাহ পাওয়া পেট্রলের একটি বড় অংশ দ্রুত শেষ হয়ে যায়। অবশিষ্ট অংশ সীমিতভাবে বিতরণ করা হচ্ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না।
নিচে বর্তমান পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| লাইনে অপেক্ষার সময় | ২–৫ ঘণ্টা বা তার বেশি |
| জ্বালানি সরবরাহ | সীমিত, অনিয়মিত ও চাহিদার তুলনায় কম |
| সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত | চাকরিজীবী, কৃষক, পরিবহন চালক |
| প্রধান সমস্যা | অফিসে দেরি, আয় হ্রাস, সেচ ব্যাহত |
| সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব | উৎপাদন কমে যাওয়া, অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি |
| নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা | সীমিত তদারকির মাধ্যমে বিতরণ |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনার ঘাটতি ও সমন্বয়ের অভাব এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে এটি শুধু স্থানীয় অর্থনীতিতেই নয়, বৃহত্তর জাতীয় উৎপাদন ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
