বিশ্বকাপ ২০২৬ কেবল ৬৬ দিনের দূরত্বে, এবং এই সময়ে নেইমারের পূর্ণ ফিটনেস নিশ্চিত করা ব্রাজিল জাতীয় দলের ও তাঁর ক্লাব সান্তোসের জন্য অগ্রাধিকারের বিষয়। চলতি পরিস্থিতিতে নেইমারের শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পিত কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে তিনি বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হয়ে দলে ফিরতে পারেন।
সান্তোসের লক্ষ্য স্পষ্ট: বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে সর্বাধিক ম্যাচে মাঠে নামানো। ক্লাবের কোচ কুকা জানিয়েছেন, নেইমারের শারীরিক ফিটনেস পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিশেষজ্ঞ দলের সহযোগিতা চলছে। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ইতিমধ্যে শর্ত দিয়েছেন যে, নেইমারকে জাতীয় দলের স্কোয়াডে সুযোগ পেতে হলে ১০০% ফিট হতে হবে।
সান্তোস ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আগে মোট ১৪টি ম্যাচ খেলবে, যা ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, কোপা দো ব্রাজিল এবং কোপা সুদামেরিকানার অন্তর্ভুক্ত। নেইমারের জন্য পরিকল্পিত ম্যাচ সূচি নিম্নরূপ:
| তারিখ | প্রতিযোগিতা | বিপক্ষ দল | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১০ মে | ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ | প্যালমেইরাস | সম্ভাব্য উচ্চ ঝুঁকির ম্যাচ (কৃত্রিম ঘাস) |
| ১৫ মে | কোপা দো ব্রাজিল | ফ্লামেঙ্গো | মাঠে ফিরবেন |
| ১৮ মে | বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা | – | আনচেলত্তি |
| ২৫ মে | জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প | – | গ্রানজা কোমারিতে শুরু |
| ১১ জুন | বিশ্বকাপ শুরু | – | – |
নেইমারের ৩৪ বছর বয়স এবং দীর্ঘ খেলার চাপ মোকাবিলায় তার শরীরকে আগেভাগেই প্রস্তুত করতে ক্লাবের বিশেষজ্ঞরা ‘পিআরপি’ (প্লাটিলেট-রিচ প্লাজমা) পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগীর নিজস্ব রক্ত ব্যবহার করে দ্রুত পেশি ও জয়েন্ট পুনর্গঠন করা হয়। এছাড়াও নেইমার দিনে দুই বেলা কঠোর অনুশীলনে অংশ নিচ্ছেন, যাতে মাঠে ফিটনেসের পূর্ণতা বজায় থাকে।
সান্তোস কোচ কুকা বলেন, “সুদামেরিকানার প্রথম ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়াটা পরিকল্পিত। আমরা নিশ্চিত করছি যে বাকি ১৩টি ম্যাচে নেইমার পুরো উদ্যমে মাঠে থাকবে। আমাদের মেডিক্যাল ও ফিজিওলজি বিভাগ একযোগে কাজ করছে।”
নেইমারের হাঁটুর বিষয়টি সাম্প্রতিক ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে অস্ত্রোপচার দিয়ে সমাধান করা হয়েছে। কোচ কুকা জানালেন, “এটি সম্পূর্ণ চিকিৎসাসংক্রান্ত, পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে নেয়া হয়েছে। মাঠে ফিরিয়ে আনা এবং গতি, শক্তি ও স্ট্যামিনা উন্নত করাই মূল লক্ষ্য।”
নেইমারের জাতীয় দলে সর্বশেষ খেলা ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উরুগুয়ের বিপক্ষে মারাত্মক চোটের পর ক্রমাগত ফিটনেস সমস্যা তার জাতীয় দলে ফেরা বিলম্বিত করেছে। এখন সান্তোসের পরিকল্পিত ‘মিনি প্রি-সিজন’ এবং নিয়মিত অনুশীলন তাকে আবারও বিশ্বকাপে পাঠাতে সহায়ক হবে।
সর্বশেষ অবস্থা অনুযায়ী, নেইমারের জন্য সান্তোসের প্রচেষ্টা এবং মেডিক্যাল তদারকির মাধ্যমে বিশ্বকাপে দলে ফেরা সম্ভব হতে যাচ্ছে, যদিও শেষ সিদ্ধান্ত আনচেলত্তির হাতে।
