চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ে পা হারালেন পুলিশ সদস্য

নওগাঁর আত্রাইয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে সেখান থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালবেলা আত্রাই রেলস্টেশনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, এমরান মিয়া (৩০) নামে ওই পুলিশ সদস্য সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে করে আত্রাইয়ে পৌঁছান। ট্রেনটি পুরোপুরি থামার আগেই তিনি দ্রুত নামার চেষ্টা করেন। এ সময় ভারসাম্য হারিয়ে তিনি ট্রেনের নিচে পড়ে যান এবং চাকার আঘাতে তাঁর দুই পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়—বাম পা হাঁটুর নিচ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ডান পা আংশিকভাবে ঝুলে থাকে।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিচ্ছিন্ন পাটি সংরক্ষণের জন্য বরফভর্তি কার্টনে রাখা হয়, যাতে পরবর্তীতে পুনঃসংযোজনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা যায়। অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার সময় তাঁর শরীরে রক্ত সঞ্চালন এবং স্যালাইন চলমান রাখা হয়, যা তাঁর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এমরান মিয়ার বাড়ি পিরোজপুর জেলায় হলেও বর্তমানে তিনি বাগেরহাটে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক একটি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে তিনি নওগাঁর আত্রাইয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে ফেরার পথে।

এমরানের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি অবসরপ্রাপ্ত এক মাদ্রাসা শিক্ষকের কনিষ্ঠ সন্তান। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। প্রায় নয় বছর আগে আত্রাই উপজেলার তারাটিয়া গ্রামে তাঁর বিয়ে হয়। বর্তমানে তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

এমরানের শ্বশুর জানান, তাঁদের কোনো পুত্রসন্তান নেই। জামাতারাই তাঁদের ভরসা। জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে এমরানকে ডাকা হয়েছিল। তিনি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিষয়টি দেখাশোনা করলেও ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা তাঁদের পরিবারে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

নিচে ঘটনাটির সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—

বিষয়তথ্য
আহত ব্যক্তিএমরান মিয়া (৩০), পুলিশ সদস্য
দুর্ঘটনার স্থানআত্রাই রেলস্টেশন, নওগাঁ
ট্রেনের নামসীমান্ত এক্সপ্রেস
দুর্ঘটনার ধরনচলন্ত ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে পড়ে যাওয়া
আঘাতের ধরনদুই পা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত (একটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন)
প্রাথমিক চিকিৎসাআত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
পরবর্তী চিকিৎসারাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বর্তমান অবস্থাউন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরিত

এই দুর্ঘটনা আবারও চলন্ত ট্রেন থেকে নামার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কবার্তা হিসেবে সামনে এসেছে। সামান্য অসাবধানতাই কীভাবে জীবনকে চিরতরে বদলে দিতে পারে, তারই করুণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ঘটনা।