মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল সৈয়দ মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই তথ্য প্রথমে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স প্রকাশ করে এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ওই সূত্রের বরাতে বিষয়টি তুলে ধরে।
আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোরে সংঘটিত একটি হামলায় তিনি প্রাণ হারান। বিবৃতিতে হামলাটিকে সরাসরি “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সন্ত্রাসী যৌথ অভিযান” হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান, ব্যবহৃত সামরিক কৌশল কিংবা লক্ষ্যবস্তুর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে কোনো পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির তালিকাও জানানো হয়নি, যা ঘটনার স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ফার্স ও আল জাজিরা উভয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে নিহত জেনারেল খাদেমি আইআরজিসির গোয়েন্দা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। তবে স্বাধীনভাবে এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা যাচাই করা এখনো সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত কয়েক মাস ধরে ইরান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বিভিন্ন সামরিক অবস্থানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে গোয়েন্দা ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়ায় সংঘাত আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে কৌশলগত অবকাঠামো এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হলে প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
অন্যদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কিছু বিধিনিষেধ আরোপের কথাও জানা গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময়রেখা
| তারিখ | ঘটনা | সংশ্লিষ্ট পক্ষ |
|---|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | বড় ধরনের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু | যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল |
| মার্চের শুরু | ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ | ইরান, ইসরাইল ও আঞ্চলিক মিত্ররা |
| মার্চের মাঝামাঝি | প্রতিশোধমূলক হামলা বৃদ্ধি | ইরান ও বিভিন্ন ঘাঁটি |
| ৬ এপ্রিল | আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান নিহতের দাবি | ফার্স ও আল জাজিরার সূত্রে রিপোর্ট |
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোনো ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে এবং বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন দাবি ও বিবৃতির কারণে ঘটনার প্রকৃত চিত্র এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
