ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ পরিশোধের শর্ত পূরণ হলে তবেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। রবিবার (৫ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক উপ-প্রধান সাইয়্যেদ মেহদি তাবাতাবেয়ী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তাবাতাবেয়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে বলেছেন, “ক্ষতিপূরণ পরিশোধের জন্য ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত মাশুলের ওপর ভিত্তি করে একটি ‘নতুন আইনি কাঠামো’ তৈরি করতে হবে। এই কাঠামোর মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত হবে এবং তদনুযায়ী হরমুজ প্রণালি খোলা হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছেন, যা তার ‘চরম হতাশা ও ক্ষোভ’ থেকেই এসেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের শর্তমূলক বার্তা আসার পরও আন্তর্জাতিকভাবে উত্তেজনা কমে আসেনি। ট্রাম্পের হুমকিমূলক মন্তব্য নিয়ে তার রাজনৈতিক বিরোধী শিবিরের সিনেটররা তীব্র সমালোচনা করেছেন।
প্রভাবশালী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তার সাবেক টুইটার হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক মাস পর ইস্টার সানডের দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য পাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। ট্রাম্পকে মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো শুধুই প্রলাপ। কংগ্রেসকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
অন্য ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্পের আচরণকে ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, “যদি আমি ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্য হতাম, তবে এই ইস্টার সানডে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করতাম। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছেন এবং আরও আরও মৃত্যুর কারণ হতে যাচ্ছেন।”
হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রণালির অবস্থান | হরমুজ প্রণালি, উপসাগরীয় পথ |
| ইরানের শর্ত | যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ পরিশোধ |
| ক্ষতিপূরণ পদ্ধতি | ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত মাশুলের ওপর ভিত্তি করে নতুন আইনি কাঠামো |
| মার্কিন হুমকি | বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার সম্ভাবনা, ট্রাম্পের বক্তব্য |
| আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া | সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও ক্রিস মারফির সমালোচনা |
| রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট | ইরান-মার্কিন উত্তেজনা, কংগ্রেসের হস্তক্ষেপের আহ্বান |
বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও পেট্রোলিয়াম সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, যা অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের বিরোধ ও সিনেটরদের সমালোচনা চলতে থাকায়, ইরানের শর্ত পূরণের আগে কোনো রাজনৈতিক সমাধান দ্রুত সম্ভব নয় বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
মোটকথা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে হলে কেবলই ক্ষতিপূরণ ও আইনি কাঠামো পূরণ করতে হবে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনৈতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
