রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কৃষকরা তেলের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে মোহনপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শেখ ফিলিং স্টেশনের সামনে কৃষকরা দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ডিজেল তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন, কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতি তাদের সেচ কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্তমানে লোডশেডিং এবং ডিজেল তেলের অভাব একত্রে তাদের কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলেছে। কৃষক মো. ইউনুস আলি বলেন, “একদিকে লোডশেডিং, অন্যদিকে ডিজেল তেলের সংকট। আমাদের সেচ পাম্প চলাতে ঘন্টা ঘন্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, তবুও প্রয়োজন মতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। জমির ফসল ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছে।”
কৃষক মো. হোসেন আলি মন্ডল আরও বলেন, “তেলের জন্য শুধু লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয় না, সেচের তেল নিতে কৃষি অফিসারের স্বাক্ষরও প্রয়োজন। এই অতিরিক্ত প্রক্রিয়া আমাদের জন্য আরও ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। বীজ বুনেছি, কিন্তু সেচ দিতে পারছি না।”
অন্য কৃষক মো. জিলাল শেখ বলেন, “গাড়ি ভাড়া করে কাজ ফেলে তেল নিতে আসি। কিন্তু যথেষ্ট তেল না পেলে আমাদের সময় ও শ্রম উভয়ই নষ্ট হয়। ক্ষতি ছাড়া কিছুই হয় না।” স্থানীয় কৃষকদের এই অভিযোগে স্পষ্ট যে, সংকট তাদের দৈনন্দিন কাজ ও আয় উভয়কেই প্রভাবিত করছে।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিজেরাও তেলের সংকট থেকে মুক্ত নয়। নিয়মিত চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ না থাকায় যে পরিমাণ তেল আসে, তা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় তেল পাওয়া মাত্র বিতরণ করা হচ্ছে। স্টেশন কর্মকর্তা জানান, “যতটুকু তেল আসে, তা দ্রুত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু চাহিদা অতিরিক্ত হওয়ায় সব কৃষককে তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, “কৃষকরা যাতে তাদের সেচ পাম্প চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল পেতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।”
এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা সরকারের তরফে দ্রুত পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য অতি জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
নিচের টেবিলে কালুখালীতে তেল সংকট ও কৃষকদের দুর্ভোগ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| এলাকা | কালুখালী, রাজবাড়ী |
| পরিস্থিতি | কৃষকরা তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করছেন |
| তেলের চাহিদা | সেচ কার্যক্রমের জন্য উচ্চ চাহিদা |
| প্রধান অভিযোগ | দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, অফিসারের স্বাক্ষরের প্রয়োজন, যথেষ্ট তেল না পাওয়া |
| কৃষকরা উল্লেখ করেছেন | মো. ইউনুস আলি, মো. হোসেন আলি মন্ডল, মো. জিলাল শেখ |
| ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের মন্তব্য | সংকটের বাইরে নয়, তেল দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় বিতরণ |
| জেলা প্রশাসক মন্তব্য | পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে |
| প্রভাব | সেচ কার্যক্রম ব্যাহত, ফসল ঝুঁকিতে, কৃষকদের দৈনন্দিন কাজ ও আয়ের ক্ষতি |
সংক্ষেপে, রাজবাড়ীর কালুখালীতে তেলের তীব্র সংকট কৃষকদের সেচ কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। কৃষকরা দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু যথাযথ সরবরাহ না হওয়ায় তাদের ফসল ও আয়ের ওপর প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য কার্যক্রম চালাচ্ছে।
