খুলনা মহানগরীতে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন হাওলাদার ওরফে গজাল ইমন (২৩) কে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খুলনা মহানগর পুলিশের (Khulna Metropolitan Police—কেএমপি) দৌলতপুর থানা এবং মহানগর গোয়েন্দা শাখা (Detective Branch—ডিবি) যৌথভাবে শনিবার দিবাগত রাতে এই অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে নগরীর রায়েরমহল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইমনকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা এলাকার কার্তিককূল উত্তর ঘোষপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানেই বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ইমন হাওলাদার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা বুচিতলা এলাকার বাসিন্দা এবং আলমগীর হোসেনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় একাধিক অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ
অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির মধ্যে রয়েছে দুইটি ওয়ান শ্যুটার গান, একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং চার রাউন্ড ওয়ান শ্যুটার গানের কার্তুজ। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এসব অস্ত্র এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহার করা হতো।
মামলার তথ্য ও অপরাধ ইতিহাস
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ইমন হাওলাদারের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, দস্যুতা ও চুরিসহ অন্তত সাতটি গুরুতর মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক অবস্থায় থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিচে অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম | ইমন হাওলাদার (গজাল ইমন) |
| বয়স | ২৩ বছর |
| এলাকা | মহেশ্বরপাশা বুচিতলা, দৌলতপুর, খুলনা |
| পিতার নাম | আলমগীর হোসেন |
| অভিযান পরিচালনাকারী ইউনিট | Khulna Metropolitan Police দৌলতপুর থানা ও Detective Branch |
| গ্রেপ্তারের স্থান | রায়েরমহল, খুলনা মহানগরী |
| উদ্ধারকৃত অস্ত্র | ২টি ওয়ান শ্যুটার গান, ১টি পিস্তল |
| উদ্ধারকৃত গোলাবারুদ | ১টি ম্যাগাজিন, ১ রাউন্ড পিস্তল গুলি, ৪ রাউন্ড কার্তুজ |
| মোট মামলা | অন্তত ৭টি (হত্যা, অস্ত্র, দস্যুতা, চুরি ইত্যাদি) |
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ইমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পাশাপাশি তার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে এমন অন্যান্য সহযোগী ও অস্ত্র চক্রের নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত চলমান রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দৌলতপুরসহ খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্রের ওপর গুরুত্বপূর্ণ চাপ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অপরাধ নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
