যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরে একটি রেকর্ডিং স্টুডিওতে সংঘটিত সশস্ত্র ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিশ্বখ্যাত র্যাপার Gucci Mane, যিনি ওই সময় স্টুডিওতে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; বরং একটি সুপরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা, যার উদ্দেশ্য ছিল ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সংগীতশিল্পীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করা।
ঘটনাটি ঘটে গত ১০ জানুয়ারি ডালাসের একটি আধুনিক মিউজিক রেকর্ডিং স্টুডিওতে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, জনপ্রিয় র্যাপার Poo Shiesty ভুক্তভোগী তিন সংগীতশিল্পীকে একটি “রেকর্ডিং চুক্তি পুনর্বিবেচনা বৈঠক”-এর কথা বলে সেখানে আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু তারা স্টুডিওতে পৌঁছানোর পরপরই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে সহিংস রূপ নেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনার নামে সেখানে একটি সমন্বিত সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। একাধিক বন্দুকধারী ভুক্তভোগীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে রোলেক্স ঘড়ি, মূল্যবান গয়না, নগদ অর্থ এবং অন্যান্য দামি সম্পদ লুট করা হয়। এক ভুক্তভোগীকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়, এমনকি গলা চেপে ধরে অচেতন করার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্টুডিওর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ। অভিযোগ অনুযায়ী, র্যাপার Big30 স্টুডিওর প্রবেশপথে পাহারায় অবস্থান নেন, যাতে কেউ ভেতরে প্রবেশ বা বের হতে না পারে এবং ভুক্তভোগীরা কোনোভাবেই সাহায্য চাইতে না পারে। তদন্তকারীরা এই পুরো ঘটনাকে একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের পরিকল্পিত অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, Poo Shiesty-এর বাবা লনট্রেল উইলিয়ামস সিনিয়র এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং হামলার বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, Poo Shiesty তখন ফ্লোরিডায় একটি অস্ত্র মামলায় গৃহবন্দী অবস্থায় ছিলেন। সেই শর্ত ভেঙে তিনি টেক্সাসে এসে এই অপরাধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লুট করা সামগ্রীর ছবি প্রকাশ করেন, যা পরবর্তীতে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ডালাস, মেমফিস এবং ন্যাশভিল এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে মোট নয়জন সন্দেহভাজনের মধ্যে আটজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। মার্কিন অ্যাটর্নি রায়ান রেবোল্ড মন্তব্য করেন, সংগীত বা ব্যবসার আড়ালে সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না; এই মামলা ভবিষ্যতের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
নিচে অভিযুক্তদের ভূমিকা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| নাম | আসল পরিচয় | অভিযোগে ভূমিকা |
|---|---|---|
| Poo Shiesty | লনট্রেল উইলিয়ামস জুনিয়র | ভুক্তভোগীদের স্টুডিওতে ডেকে আনার মূল পরিকল্পনাকারী |
| Big30 | রডনি ল্যামন্ট রাইট জুনিয়র | স্টুডিওর প্রবেশপথে পাহারা দিয়ে অবরুদ্ধকরণ |
| একাধিক অজ্ঞাত সহযোগী | অজ্ঞাত | অস্ত্র প্রদর্শন, ভয়ভীতি সৃষ্টি ও লুটপাট |
| লনট্রেল উইলিয়ামস সিনিয়র | অজ্ঞাত | পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তার অভিযোগ |
তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সংগীত শিল্পের ভেতরে সম্ভাব্য অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। মামলাটির বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
