গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় প্রবেশ করে ওসি ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আরও দুই জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করেছে। তাদের শনিবার রাতের বিশেষ অভিযানে আটক করা হয় এবং রোববার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
- পলাশবাড়ী উপজেলা যুব জামায়াতের বাইতুল মাল সম্পাদক পলাশ আহমেদ (৩৫)
- একই উপজেলার জামায়াত নেতা গোলজার রহমান (৩৪)
পুলিশ জানিয়েছে, তারা মামলার ১ ও ৪নং আসামি। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট পাঁচজন গ্রেফতার হয়েছেন।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সারোয়ারে আলম বলেন, “মামলার পর থেকে আসামিরা পলাতক ছিলেন। শনিবার রাতের অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। রোববার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার রাত ৯:৩০ মিনিটে। পৌরসভার মালিকানাধীন কালিবাড়ি বাজারে একটি দোকানে তালা লাগানোর বিষয়কে কেন্দ্র করে সমস্যা তৈরি হয়। উপজেলা যুব জামায়াতের বাইতুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক থানায় প্রবেশ করেন। তারা থানার ওসি সারোয়ারে আলমকে দোকানটি তালাবদ্ধ করতে বলেন। ওসি রাজি না হলে পলাশ ও তার অনুসারীরা পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন।
ফলে আহত হন ওসিসহ এসআইসহ মোট ৮ পুলিশ সদস্য। পরে এসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে পলাশবাড়ী থানায় ৮ জামায়াত নেতাসহ অজ্ঞানামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আরও তথ্য পাওয়া গেছে এবং ঘটনার পেছনের অন্যান্য জটিলতা উদঘাটন করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাশবাড়ী থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে অভিযানের মাধ্যমে তাদের আটক করা হয়।
নিচের টেবিলে গ্রেফতারকৃত নেতাদের তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| নাম | বয়স | পদবি/প্রতিষ্ঠান | গ্রেফতার এলাকা | মামলার আসামি নং |
|---|---|---|---|---|
| পলাশ আহমেদ | ৩৫ | বাইতুল মাল সম্পাদক, যুব জামায়াত | দীঘলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় | ১ |
| গোলজার রহমান | ৩৪ | জামায়াত নেতা | দীঘলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় | ৪ |
| মাহমুদুল হাসান পলাশ | ৩৬ | উপজেলা যুব জামায়াত নেতা | কালিবাড়ি বাজার | ২ |
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আরও সহায়তাকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। পলাশবাড়ী থানার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও গোয়েন্দা দল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
