রোববার ভোরে ইরান ইসরায়েল ও কুয়েতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলা ঘটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামের একদিন পর। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, সময় শেষ হলে ইরানের ওপর “চরম বিপর্যয়” নেমে আসবে।
কুয়েত ও ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। হামলার একদিন আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরানকে ২৬ মার্চ ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল হরমুজ প্রণালি খোলার বা চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য, কিন্তু এখন সময় ফুরিয়ে আসছে।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অনেক শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর ইরানও পাল্টা প্রতিশোধ শুরু করে। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে তেল ও গ্যাস পরিবহন সীমিত হয়ে পড়ছে। তেহরান আশেপাশের উপসাগরীয় দেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখছে। উভয় পক্ষই একতরফা হামলা চালাচ্ছে না; ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, শনিবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড ট্রাম্পের হুমকিকে ‘অসহায়, আতঙ্কিত, ভারসাম্যহীন ও নির্বোধ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। জেনারেল আলী আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি বলেন, “নরকের দরজা আপনার জন্য খুলে যাবে।”
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে রাতের আকাশে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায় এবং উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের অনেক সামরিক নেতা তেহরানে এই হামলায় নিহত হয়েছেন। তবে ভিডিওতে হামলার সঠিক সময় ও তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক হামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো:
| তারিখ | লক্ষ্য | হামলার ধরন | ক্ষয়ক্ষতি | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | ইরান | যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বিমান হামলা | শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত | ইরান পাল্টা প্রতিশোধ শুরু করে |
| ২৬ মার্চ | ইরান | ট্রাম্পের আলটিমেটাম | চুক্তি প্রত্যাখ্যান | ইরানি সামরিক কমান্ড হুঁশিয়ারি |
| ৫ এপ্রিল | কুয়েত ও ইসরায়েল | ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা | ক্ষয়ক্ষতি চলমান | আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় |
| ৪ এপ্রিল | খুজেস্তান, ইরান | পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্র লক্ষ্য | ৫ নিহত | হামলার দায় বিদেশী শক্তির উপর |
মধ্যপ্রাচ্যে এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে। তেল ও গ্যাস পরিবহন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব পড়ায় বিশ্ব বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে চলমান পাল্টা হামলা এখনও শান্ত হওয়ার কোনো চিহ্ন দেখাচ্ছে না।
এ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
