শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চলতি মণ্ডলীর চতুর্থ সভা দীর্ঘকাল ধরে চলে। দুপুরে শুরু হওয়া সভা রাত নয়টা নাগাদ শেষ হয়। তবে সভার সমাপ্তির আগে হঠাৎ করে বোর্ডের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগের ঘোষণা দেন, যা দেশের ক্রিকেট মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
প্রথমে পদত্যাগ ঘোষণা দেন ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান এবং ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ফায়াজুর রহমান মিতু। তার দুই ঘণ্টার মধ্যেই একই পথে পদত্যাগ ঘোষণা করেন শাহনিয়ান তানিম, মেহেরব আলম এবং মঞ্জুরুল আলম। এক দিনে চার পরিচালক পদত্যাগের ঘটনায় বোর্ডের অভ্যন্তরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
পদত্যাগ করা পরিচালকরা জানান, তাদের প্রত্যেকের পেছনে ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে। একজন পরিচালক বলেন, “বোর্ডের কাজের পরিবেশে সন্তুষ্ট না হওয়ায় আমি আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।” তবে এর সঙ্গে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে রোববার জমা হওয়ার কথা থাকা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
গতকাল রাত ১০টার দিকে মেইলের মাধ্যমে তিনজন পরিচালক তাদের পদত্যাগের বিষয় নিশ্চিত করেছেন। বোর্ডে পদত্যাগের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পদত্যাগকারীদের দায়িত্বের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
| পরিচালক | দায়িত্ব | পদত্যাগের কারণ |
|---|---|---|
| ফায়াজুর রহমান মিতু | ডিসিপ্লিনারি কমিটি চেয়ারম্যান | বোর্ডের কাজে অসন্তুষ্টি |
| শাহনিয়ান তানিম | ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের চেয়ারম্যান | ব্যক্তিগত কারণ |
| মেহেরব আলম | সিকিউরিটি কমিটির সদস্য | ব্যক্তিগত কারণ |
| মঞ্জুরুল আলম | মেডিকেল কমিটির সদস্য | ব্যক্তিগত কারণ |
বোর্ডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, “যদি এখানে অস্থিরতা থাকত, আমি এখানে থাকতাম না। তদন্ত কমিটিকে কাজ করতে দিতে হবে। আমরা সকলেই আমাদের দায়িত্ব পালন করছি। ভবিষ্যতে যা ঘটবে, তার জন্য চিন্তিত নই। আমরা প্যাশন নিয়ে বোর্ডে কাজ করছি।”
বিসিবির প্রথম নারী পরিচালক রুবাবা দৌলা বলেন, “আজ আমরা ৯ ঘণ্টা ধরে বোর্ড মিটিং করেছি। গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কমিটির চেয়ারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা দায়িত্বশীলভাবে আমাদের কাজ চালাচ্ছি এবং বোর্ডের কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিতে মনোযোগ দিচ্ছি।”
এই পদত্যাগের পর বোর্ডে অস্থিরতার ছাপ স্পষ্ট। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন দায়িত্ব নেওয়া পরিচালকরা কিভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বোর্ডের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং পরিচালকদের মনোবল বজায় রাখা দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
