ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সংগীতায়োজনে পুরনো ব্যান্ড গানগুলো নতুন রূপে ফিরে এসেছে। এই বিশেষ প্রজেক্টে দেশের পাঁচটি ব্যান্ডের জনপ্রিয় গানগুলো আধুনিক সুর ও নতুন কণ্ঠশিল্পীর মাধ্যমে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। গানগুলো সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে বি হেয়ার নাও ব্যানারের ব্যানারে। প্রজেক্টের নাম রাখা হয়েছে ‘টাচ অব গোল্ড’, যা নব্বইয়ের দশকের কম্পোজিশনগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি এবং সঙ্গীতশৈলীর সঙ্গে সংমিশ্রিত করেছে।
নিচের টেবিলে পাঁচটি গান ও নতুন কণ্ঠশিল্পীর তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| মূল ব্যান্ড | মূল গান | নতুন কণ্ঠশিল্পী | বিশেষত্ব |
|---|---|---|---|
| এলআরবি | ঘুমন্ত শহরে | জোহাদ রেজা চৌধুরী, রায়েফ আল হাসান রাফা, শাকিব চৌধুরী | তিনজন কণ্ঠের মেলবন্ধনে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে |
| অর্থহীন | অদ্ভুত সেই ছেলেটি | শাকিব চৌধুরী (ক্রিপটিক ফেইট) | মূল সুর অক্ষুন্ন রেখে আধুনিক রিমিক্স করা হয়েছে |
| ডিফারেন্ট টাচ | শ্রাবণের মেঘ | এলিটা করিম | নতুন ভোকাল ও আধুনিক সাউন্ডের সংমিশ্রণ |
| ক্রিপটিক ফেইট | ভবঘুরে | রায়েফ আল হাসান রাফা | গানটির মূল আবহ বজায় রেখে নতুন আঙ্গিক সংযোজন |
| ওয়াটসন ব্রাদার্স | রঙ | জোহাদ রেজা চৌধুরী | নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর জন্য নতুন আকারে উপস্থাপন |
ফুয়াদ আল মুক্তাদির জানিয়েছেন, “নব্বইয়ের দশকে গানগুলো রেকর্ড করার সময় আমাদের প্রযুক্তি সীমিত ছিল। আজকের আধুনিক রিসোর্স ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা এই গানগুলোকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছি। পুরো প্রক্রিয়ায় আমাদের স্বাধীনতা ছিল, এবং আমাদের টিম নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়েছে।”
ক্রিপটিক ফেইট ব্যান্ডের শাকিব চৌধুরী বলেন, “যদি বয়স কম হত, হয়তো মনে হতো গানগুলোর মৌলিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে আমি বুঝতে পারছি, এটি মূল গানগুলোকে সংরক্ষিত রাখার একটি উদ্যোগ। পুনঃরূপায়ণ মানুষের আগ্রহ বাড়ায়, মানুষ অরিজিনাল গানগুলোও আবার শোনে।”
নেমেসিস ব্যান্ডের জোহাদ রেজা চৌধুরী যোগ করেছেন, “আমরা এই গানগুলো শুনে বড় হয়েছি। নতুন সাউন্ডে গানগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছেছে, যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।”
প্রতিটি গানের ভিডিও নির্মাণ করেছে রানআউট ফিল্মস, পরিচালনা করেছেন আদনান আল রাজীব। ভিডিওগুলোতে গানের কথার সঙ্গে মিল রেখে ভিন্ন ভিন্ন গল্প দেখানো হয়েছে। দর্শক গানগুলো কেবল শুনবেন না, বরং ভিজ্যুয়াল গল্পের মাধ্যমে গানগুলো অনুভবও করতে পারবেন।
ফুয়াদের এই প্রজেক্ট দেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের এক নতুন দিক তুলে ধরেছে। পুরনো গানগুলোকে আধুনিক আঙ্গিক এবং নতুন কণ্ঠের সঙ্গে মেলিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এই উদ্যোগ সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।
ফলত, ‘টাচ অব গোল্ড’ শুধু গান পুনর্নির্মাণ নয়, বরং দেশের ব্যান্ড সংস্কৃতিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। গানগুলোতে প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা ও আবেগের সংমিশ্রণ ঘটেছে, যা সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
