সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওরে জলাবদ্ধতা থেকে ফসল রক্ষা এবং বাঁধ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
Table of Contents
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিরোধের কারণ
সুনামগঞ্জের ডাকুয়ার হাওরটি স্থানীয় মোহনপুর এবং কাঠইর—এই দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষকের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস। সম্প্রতি টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে হাওরে অস্বাভাবিক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে আধাপাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে নোয়াগাঁও ও উলুতুল গ্রামের কৃষকেরা জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধের একটি অংশ কাটার উদ্যোগ নেন।
অন্যদিকে, মোহনপুর ও সরদারপুর গ্রামের কৃষকদের দাবি, ওই স্থানে বাঁধ কাটা হলে পানির তীব্র স্রোতে তাদের দিকের নিচু জমির ফসল পুরোপুরি ভেসে যাবে। মূলত এক পক্ষের ফসল রক্ষা আর অন্য পক্ষের ফসল তলিয়ে যাওয়ার এই পাল্টাপাল্টি শঙ্কা থেকেই বিরোধের সূত্রপাত হয়।
প্রশাসনের মধ্যস্থতা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত
উত্তেজনা নিরসনে আজ শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এই সংকট সমাধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং সরেজমিনে পরিদর্শন না করা পর্যন্ত কোনো পক্ষকে কোনো পদক্ষেপ না নিতে অনুরোধ করেন।
তবে বৈঠক চলাকালীন সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজন বাঁধ কাটতে শুরু করেছেন। এই খবর মোহনপুর গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয়রা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। মুহূর্তের মধ্যেই দুই পক্ষ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, যাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আক্রান্ত গ্রাম ও বর্তমান পরিস্থিতি
নিচে বিরোধের সাথে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও গ্রামগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:
| ইউনিয়নের নাম | সংশ্লিষ্ট গ্রামসমূহ | অবস্থান ও ভূমিকা |
| মোহনপুর ইউনিয়ন | মোহনপুর, সরদারপুর, জয়নগর | বাঁধ কাটার বিপক্ষে অবস্থান |
| কাঠইর ইউনিয়ন | নোয়াগাঁও, উলুতুল | জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধ কাটতে আগ্রহী |
প্রশাসনের পদক্ষেপ
সংঘর্ষের খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করার নির্দেশ দেন। এর ফলে উক্ত এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও দেশীয় অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানিয়েছেন, বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। কৃষকদের এই সমস্যা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এলাকায় এখনো চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে, যার ফলে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স।
