ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ সন্তানের খোঁজে আহাজারিতে ভেঙে পড়েছেন কুলসুম বেগম নামের এক মা। তিনি বারবার কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকেন, “আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।” তাঁর ১৭ বছর বয়সী ছেলে নাঈম ওই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। আগুন লাগার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
কুলসুম বেগম জানান, তারা গোলামবাজার এলাকায় বসবাস করেন। মাত্র তিন মাস আগে নাঈম স্থানীয় একটি গ্যাসলাইটার তৈরির কারখানায় কাজ শুরু করে। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকাল আটটার দিকে সে বাসা থেকে কাজে বের হয়। কিন্তু দুপুরে কারখানায় আগুন লাগার পর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “সকালেই বের হয়েছিল ছেলে, এখন কোথায় আছে আমি জানি না।”
এই একই দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন কাওসার সরদার নামের আরেক অভিভাবক। তাঁর ১২ বছর বয়সী মেয়ে মনিরাও ওই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। তিনি বলেন, প্রায় এক বছর ধরে তাঁর মেয়ে সেখানে কাজ করছিল। সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর হঠাৎ আগুন লাগার খবর পান তিনি। এরপর থেকেই তিনি কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে মেয়ের খোঁজ করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানাটিতে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভেতর থেকে পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার কার্যক্রম চলছে এবং নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক দল দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিচে ঘটনাটির একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অগ্নিকাণ্ডের স্থান | দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, কদমতলী ডিপজল গলি |
| কারখানার ধরন | গ্যাসলাইটার উৎপাদন কারখানা |
| শ্রমিক সংখ্যা (আনুমানিক) | ৩৫–৪০ জন |
| নিহতের সংখ্যা | ৫ জন (এ পর্যন্ত উদ্ধার) |
| নিখোঁজ | একাধিক শ্রমিক |
| উদ্ধার অভিযান | ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে চালাচ্ছে |
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই বছর আগে একই কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। তখন কর্তৃপক্ষ কারখানাটি বন্ধ করে দিলেও কিছুদিন পর আবার কার্যক্রম শুরু হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, কারখানাটি ছিল অননুমোদিত এবং সেখানে দাহ্য কাঁচামাল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা হতো।
ডিপজল গলি এলাকার বাসিন্দারা জানান, কারখানাটি টিনশেড ও দেয়াল ঘেরা একটি স্থাপনা ছিল, যার ভেতরে একাধিক গুদাম তৈরি করে কাঁচামাল রাখা হতো। আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজ সন্তানদের খুঁজে পাওয়া যাবে কি না, সেই আশায় এখনও কারখানার সামনে অপেক্ষা করছেন অনেক অভিভাবক।
