বলিউড ও পাকিস্তানি বিনোদন জগতের মধ্যবর্তী প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানি অভিনেতা ও গায়ক আলি জাফরের নাম সর্বদা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহন’, ‘ডিয়ার জ়িন্দেগি’ ও অন্যান্য সিনেমায় তার অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছে। তবে তার বিতর্কিত মন্তব্য ও অনিয়ন্ত্রিত রসিকতা অনেক সময় বলি অভিনেত্রীদের অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে।
২০১৮ সালে পাক সংগীতশিল্পী মিশা শাফি আলির বিরুদ্ধে ‘মিটু’ অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের জবাবে আলি পাল্টা মানহানির মামলা করেন এবং আদালতে জয়লাভ করেন। ফলস্বরূপ, মিশা শাফিকে উচ্চমূল্যের ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হয়। এর মধ্যেই আলির কিছু বিতর্কিত মন্তব্যও জনসমক্ষে আলোচিত হয়।
মুম্বাইয়ের এক সাক্ষাৎকারে ‘ধর্ষণ’-সংক্রান্ত রসিকতা করে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন আলি। এক সাংবাদিক তাঁর এক সাবেক সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন, এবং উত্তরে আলি বলেছিলেন, “ধর্ষিত মনে হতো। যেন চোখ দিয়ে ধর্ষণ করা হতো।” পরে সাংবাদিক প্রশ্ন করেন—‘তাহলে আপনি কি নিরাপত্তাহীন বোধ করতেন?’ উত্তরে আলি হাসতে হাসতে বলেন, “না না! আমার বেশ ভালোই লাগত।” এই মন্তব্য দ্রুত নেটমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন।
এছাড়া, বলি অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের সঙ্গে আলির এক সাক্ষাৎকারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। ইয়ামি জানান তিনি এক যোদ্ধা রাজকুমারীর চরিত্রে অভিনয় করতে চান। সেই কথা শুনে আলি মন্তব্য করেন—“যোদ্ধা রাজকুমারীদের কিন্তু পা দেখা যায়।” এই কটূক্তিতে ইয়ামি অস্বস্তিতে পড়েন এবং কোনো উত্তর দেননি।
পাশাপাশি, বলি অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর ও পরিণীতি চোপড়াও আলির অননুকূল মন্তব্যে একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন। নেটিজেনরা সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ও আলির আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নীচের টেবিলে আলির বিতর্কিত পরিস্থিতিগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| ঘটনা | ব্যক্তিত্ব | মন্তব্য/পরিস্থিতি | প্রতিক্রিয়া |
|---|---|---|---|
| মিশা শাফি মামলা | মিশা শাফি, আলি জাফর | ‘মিটু’ অভিযোগ ও পাল্টা মানহানি | আলি জয়ী, মিশাকে ক্ষতিপূরণ |
| মুম্বাই সাক্ষাৎকার | আলি জাফর | ‘ধর্ষণ’-সংক্রান্ত রসিকতা | নেটিজেনদের সমালোচনা |
| ইয়ামি সাক্ষাৎকার | ইয়ামি গৌতম, আলি জাফর | “যোদ্ধা রাজকুমারীদের পা দেখা যায়” | ইয়ামি অস্বস্তিতে |
| অন্যান্য অভিনেত্রী | শ্রদ্ধা কাপুর, পরিণীতি চোপড়া | অস্বস্তিকর মন্তব্য | নেটিজেন ক্ষুব্ধ |
আলি জাফরের এই ধরনের মন্তব্যে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি হলেও তিনি এখনও সামাজিক ও বিনোদনমাধ্যমে সক্রিয়। নেটিজেনদের ক্ষোভ ও সমালোচনা সত্ত্বেও তার উপস্থিতি এবং কাজের প্রতি আগ্রহ কমেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন আচরণ তার জনপ্রিয়তা ও পেশাগত জীবনকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে।
এই ঘটনার পর, বলি ও পাক বিনোদন জগতে ব্যক্তিগত সীমারেখা ও সামাজিক দায়িত্বের প্রশ্ন আবারও আলোচনায় এসেছে।
