রৌমারীতে কৃষক-পুলিশ উত্তেজনা বিস্ফোরণ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে কৃষকদের সঙ্গে পুলিশের এক ড্রাইভার কনস্টেবলের অশোভন আচরণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ও উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে শুরু হওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে পুরো এলাকায় দ্রুত ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি জনরোষের মুখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকাল থেকেই ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত তেল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকটে থাকা এলাকার কৃষকেরা ধানচাষ ও অন্যান্য কৃষিকাজের প্রয়োজনে ডিজেল ও পেট্রোল সংগ্রহের জন্য সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ করে রৌমারী থানার ড্রাইভার কনস্টেবল মো. গাফ্ফার আলী কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই লাইনে থাকা অন্তত তিনজন কৃষকের ওপর শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তিনি অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন বলেও উপস্থিতরা দাবি করেন।

ঘটনার পরপরই উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয় কৃষক নুরুল আমিনসহ অনেকে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় সংবাদ সংগ্রহে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গেও অভিযুক্ত কনস্টেবল অশোভন আচরণ করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং অভিযুক্ত ড্রাইভারকে ধাওয়া করে। জীবন বাঁচাতে তিনি ফিলিং স্টেশনের বাউন্ডারি ওয়াল টপকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন বলে জানা যায়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

ঘটনার পরপরই প্রশাসন বিষয়টি অবগত হয় এবং তদন্ত শুরু করার আশ্বাস দেয়। রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তদন্তের নির্দেশনা এলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি এখনো বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ পাননি, তবে ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তথ্য সংগ্রহ চলছে।

স্থানীয়দের মতে, সাধারণ কৃষকদের সঙ্গে দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আরও মানবিক ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা

সময়/পর্যায়ঘটনা
সকাল ৯টাব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে তেল বিতরণ কার্যক্রম শুরু
কিছুক্ষণ পরলাইনে দাঁড়ানো কৃষকদের সঙ্গে উত্তেজনা শুরু
মধ্য সকালতিন কৃষককে লাথি মারার অভিযোগ ওঠে
এরপরস্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে
কিছুক্ষণ পরসাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ
পরবর্তী পর্যায়জনরোষের মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান
শেষ পর্যায়প্রশাসনের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস

বর্তমানে ঘটনাটি পুরো রৌমারী এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জোর দাবি জানাচ্ছেন।