কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। শিশুটির নাম আফরান। তার পিতা আল আমিন। পরিবারের বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামে।
হাসপাতাল সূত্র ও স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটি কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ ছিল। প্রথম দিকে বিষয়টি সাধারণ সর্দি-জ্বর মনে করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি ঘটলে শিশুটিকে দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে আনার সময়ই তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল বলে চিকিৎসকেরা জানান।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে ভর্তি করার পরই তার অবস্থা গুরুতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে পারিবারিক ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে থাকা অবস্থায় সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শিশুটির বাবা আল আমিন অভিযোগ করে বলেন, মৃত্যুর আগের দিন থেকেই শিশুটির অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছিল। তবে জরুরি মুহূর্তে নার্স ও সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারীদের সাড়া পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বিশেষ করে কম বয়সী শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলে এ রোগ নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া বা মস্তিষ্কে জটিলতার মতো প্রাণঘাতী অবস্থায় রূপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হলে অনেক ক্ষেত্রেই জীবন রক্ষা সম্ভব হয়।
এ ধরনের মৃত্যু শিশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ, সচেতনতা এবং টিকাদান কর্মসূচির গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হামের মতো রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব, যা শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা নিচে তুলে ধরা হলো—
| পর্যায় | ঘটনা |
|---|---|
| অসুস্থতার শুরু | জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয় |
| প্রাথমিক চিকিৎসা | স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা হয় |
| হাসপাতালে ভর্তি | কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় |
| চিকিৎসা অবস্থা | অবস্থা সংকটাপন্ন, উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয় |
| স্থানান্তর সিদ্ধান্ত | ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি |
| মৃত্যু | শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় মৃত্যু ঘটে |
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে, সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ, সঠিক সময়ে রেফারেল ব্যবস্থা এবং টিকাদানের প্রতি সচেতনতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে আরও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
