ফেনীতে বিজিবি ধ্বংস করল কোটি টাকার বিপুল মাদকদ্রব্য

ফেনী সীমান্তে নিয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের যুব সমাজ ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ হিসেবে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্করস্থ বিজিবি সদর দপ্তরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে আনুমানিক ২ কোটি ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫১ টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি কুমিল্লা সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান।

ধ্বংসকৃত মাদকদ্রব্য ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন অভিযানে জব্দকৃত মালিকবিহীন মাদক। বিজিবি জানিয়েছে, এসব মাদক না ধ্বংস করলে যুব সমাজ, পরিবার এবং সমাজে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারত।

ধ্বংসকৃত মাদকদ্রব্যের বিস্তারিত তালিকা নিম্নরূপ—

মাদকদ্রব্যের ধরনপরিমাণআনুমানিক বাজারমূল্য (টাকা)
বিভিন্ন প্রকার মদ৩,৬২৯ বোতলঅন্তর্ভুক্ত
ফেনসিডিল২,৯৭ বোতলঅন্তর্ভুক্ত
বিয়ার৩০৬ ক্যান ও ৭৬৫ বোতলঅন্তর্ভুক্ত
গাঁজা২৩০ কেজিঅন্তর্ভুক্ত
ইয়াবা ট্যাবলেট১৩০ পিসঅন্তর্ভুক্ত
ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট১,২২,৭০৯ পিসঅন্তর্ভুক্ত
ডার্বিন ক্রিম৪০ পিসঅন্তর্ভুক্ত
কৌটা মাদক১০ বোতলঅন্তর্ভুক্ত
বাংলা মদ১ লিটারঅন্তর্ভুক্ত
মোট আনুমানিক বাজারমূল্য২ কোটি ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫১ টাকা

অনুষ্ঠানে কর্নেল রকিবুল হাসান বলেন, “মাদকদ্রব্য কেবল যুব সমাজকে ধ্বংস করে না, বরং পরিবার ও সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। আমাদের দায়িত্ব সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং সার্বজনীন প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। সীমান্ত এলাকায় মাদকপাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেনীস্থ ৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান, এডি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খাঁন, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চয়ন বড়ুয়া, ফেনী কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা বিকাশ সরকার, ফেনী র‍্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. মিজানুর রহমান, ফেনী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত অভিযান এবং ধ্বংস কার্যক্রম সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ হ্রাসে কার্যকর। বিজিবি কেবল সীমান্তে মাদকপাচার রোধই করছে না, বরং দেশের যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখার সামাজিক দায়িত্বও সম্পন্ন করছে।

সবমিলিয়ে, ফেনীতে বিজিবির এই কার্যক্রম দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণে এক কার্যকর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, যৌক্তিক নীতি, দায়িত্বশীল নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় অপরিহার্য।