হামের সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সংক্রামক প্রাদুর্ভাবে ৪৭ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে, যাতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লতিফ জাহান পূর্ণিমা রিটটি দায়ের করেন। রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে আদালতকে অনুরোধ করা হয়েছে হামে শিশুমৃত্যুর কারণ, সংক্রমণের পরিধি, টিকাদানের হার ও টিকার প্রাপ্যতা নিরূপণসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য। প্রতিবেদনটিতে নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মৃত শিশু সংখ্যা | ৪৭ |
| সংক্রমিত শিশু সংখ্যা | বিস্তারিত পরীক্ষা প্রয়োজন |
| টিকাদানের হার | স্থানীয় ও জাতীয় ডেটা অনুযায়ী |
| টিকার প্রাপ্যতা | পর্যাপ্ততা এবং বিতরণ ব্যবস্থা |
| গ্রহণকৃত পদক্ষেপ | প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, সচেতনতা কর্মসূচি |
রিটে আরও বলা হয়েছে, টিকাদান কাভারেজ নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার ঘাটতি ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে বিলম্বের কারণ নির্ধারণে একটি স্বাধীন, সময়সীমাবদ্ধ এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হোক। এছাড়া সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া না হওয়ায় দায়ীদের ব্যাখ্যা আদালতের সামনে উপস্থাপন করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করা, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও জরুরি সাড়া প্রদানে ঘাটতি—এসবই সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। সুতরাং, বিবাদীদের দ্রুত দেশব্যাপী জরুরি হাম টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ এবং টিকা, সিরিঞ্জ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সরবরাহ পর্যাপ্ত ও অবিচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়, চলমান প্রাদুর্ভাব থাকা সত্ত্বেও স্কুলে সংস্পর্শ নিয়ন্ত্রণ ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতা জননিরাপত্তার প্রতি বেপরোয়া অবহেলা এবং শিশুদের জীবন-ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তাই আদালতের হস্তক্ষেপে জরুরি প্রতিকার গ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি করা হয়েছে।
এই রিটের মাধ্যমে আদালতের কাছে চাওয়া হয়েছে শিশুদের সুরক্ষা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং টিকাদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সুসংগঠিত কাঠামো গঠন করা। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্কুল পুনরায় খোলার আগে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।
এই ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ তীব্র হয়ে উঠেছে। রিটের প্রেক্ষিতে আদালত কবে এবং কী ধরনের নির্দেশ দেয়, তা আগামী দিনগুলোতে জাতীয় স্তরের স্বাস্থ্য নীতি ও স্কুল কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে।
