মেক্সিকোর গুয়াদালুপ স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন আবেগঘন অধ্যায়ের জন্ম নেয়। একদিকে চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপে ফেরার আনন্দে উচ্ছ্বাসে ভেসে যায় ইরাকের খেলোয়াড়রা, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন বলিভিয়ার ফুটবলাররা। বিশেষ করে বলিভিয়ার গোলরক্ষক গিলের্মো ভিসকারার কান্নার দৃশ্য পুরো স্টেডিয়ামের আবহকে ভারী করে তোলে।
আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে ২–১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে ইরাক। এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো এবং প্রায় ৪০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেল মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। জয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইরাকি সমর্থক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে—কেউ সেজদায় লুটিয়ে পড়েন, কেউ আবার সতীর্থদের জড়িয়ে ধরে আনন্দাশ্রুতে ভাসেন।
ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সবুজে ঘেরা পাহাড়ি পরিবেশে অবস্থিত মাঠে দুই দলই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে। বল দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বলিভিয়া কার্যকর সুযোগ তৈরিতে পিছিয়ে পড়ে, যেখানে ইরাক ছিল তুলনামূলক বেশি ফলপ্রসূ।
ম্যাচের ৯ মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগ পায় ইরাক। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রি-কিকে বলিভিয়ার গোলরক্ষক দারুণ দক্ষতায় দলকে রক্ষা করেন। তবে এই চাপ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি বলিভিয়া। পরের মিনিটেই কর্নার থেকে আসা বলে দারুণ এক হেডে ইরাককে এগিয়ে দেন আল-হামাদি।
পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বলিভিয়া। একাধিক আক্রমণ করলেও সফল হচ্ছিল না তারা। অবশেষে ৩৮ মিনিটে মইসেস পানিয়াগুয়ার গোলে সমতা ফেরায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১–১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। দুই দলই নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ৬৫ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মার্কো ফারজির নিখুঁত পাস থেকে বক্সে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ইরাককে আবারও এগিয়ে দেন আইমেন হুসেইন। এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
শেষ দিকে বলিভিয়া একের পর এক আক্রমণ চালালেও ইরাকের রক্ষণভাগ দৃঢ়ভাবে তা প্রতিহত করে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় ইরাকের ঐতিহাসিক জয় ও বিশ্বকাপের টিকিট।
নিচে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | ইরাক | বলিভিয়া |
|---|---|---|
| গোল | ২ | ১ |
| বল দখল | ৪৪% | ৫৬% |
| শট (টার্গেটে) | ৬ (৪) | ৯ (৩) |
| কর্নার | ৩ | ৫ |
| হলুদ কার্ড | ২ | ৩ |
এই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, বরং ইরাকি ফুটবলের দীর্ঘ পুনর্জাগরণের প্রতীক। চার দশকের অপেক্ষা শেষে বিশ্বমঞ্চে ফিরে তারা আবারও প্রমাণ করল—ইচ্ছাশক্তি আর দলীয় ঐক্য থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।
