চেলসি ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো সম্প্রতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, শিগগিরই ব্রাজিলের আক্রমণ পুনরায় ছন্দে ফিরবে, যদিও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে দর্শকরা হতাশ হয়েছেন। পেদ্রো বলেন, “আমাদের দলে এখনও রোনালদো নাজারিও, রোনালদিনিও এবং রোমারিওর মতো তারকা খেলোয়াড় আছেন। শুধু তাদের জ্বালাকে ছুঁয়ে আমরা আবার ফুটবল মাঠে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনব।”
গত সপ্তাহে ব্রাজিল ফ্রান্সের সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে যায়। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে সমর্থকরা নেইমারের নাম ধরে স্লোগান দেন, যা দলের গোল করার সক্ষমতা নিয়ে হতাশা ফুটিয়ে তোলে।
আক্রমণভাগের সাদৃশ্য
কার্লো আনচেলত্তি এই ম্যাচে শক্তিশালী আক্রমণভাগ সাজিয়েছিলেন। সেখানে রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ) এবং মাথেউস কুনহা (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড) খেলেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেছিলেন পেদ্রো। তবে এই তারকাখচিত আক্রমণভাগেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচে জয় আসেনি।
| খেলোয়াড় | ক্লাব | জাতীয় দলের ম্যাচ | গোল |
|---|---|---|---|
| ভিনিসিয়ুস জুনিয়র | রিয়াল মাদ্রিদ | 46 | 8 |
| রাফিনিয়া | বার্সেলোনা | 36 | 11 |
| পেদ্রো | চেলসি | – | – |
| নেইমার | প্যারিস সেন্ট জার্মেই | – | 79 |
জাতীয় দল ও ক্লাব পার্থক্য
পেদ্রো অরল্যান্ডোয় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা একে অপরকে আরও ভালোভাবে চিনতে শুরু করেছি। ক্লাবে যেমন সারা বছর একসঙ্গে অনুশীলন করি, জাতীয় দলে তা সম্ভব হয় না। এখানে অনেক কিছু ভিন্নভাবে করতে হয়, তাই দ্রুত মানিয়ে নেওয়া জরুরি। সময় বেশি পেলে সবকিছু আরও মসৃণ হয়ে যাবে।”
২০২৩ সালের অক্টোবরে নেইমারের হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর তিনি ব্রাজিলের জাতীয় দলে আর খেলেননি। এর ফলে শীর্ষ গোলদাতা থাকার পরও তিনি আনচেলত্তির দলে ফিরতে পারেননি। ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়াও ক্লাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেও জাতীয় দলের জার্সিতে এখনো তাঁদের সেরা ছন্দে দেখা যায়নি।
পেদ্রো আরও বলেন, “আমাদের তারকা খেলোয়াড়রা শীর্ষ ক্লাবে খেলে। সমস্যা হচ্ছে, ২৪ বছর ধরে আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারিনি। দীর্ঘদিন শিরোপা না জিতলে চাপটা বেড়ে যায়, যা খেলোয়াড়দের প্রকৃত সামর্থ্য দেখাতে বাধা দেয়।”
বাংলাদেশ সময় সকাল ছয়টায় অরল্যান্ডোয় ব্রাজিল ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচে দলে পুনরায় ছন্দ ফিরিয়ে আনার আশা নিয়ে মাঠে নামবে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল শক্তিধর দল।
