২৬ দিনে বিপুল জ্বালানি উদ্ধার অভিযান

দেশজুড়ে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত, পাচার ও বিক্রির বিরুদ্ধে সরকারের চলমান বিশেষ অভিযানে মাত্র ২৬ দিনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। ৩ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে বিপুল সংখ্যক মামলা দায়ের এবং জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি কারাদণ্ডও কার্যকর করা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযান সম্পর্কে সোমবার (৩০ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন যুগ্ম সচিব ও মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সব ধরনের অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে সারাদেশে মোট ৩ হাজার ১৬৮টি পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। এসব অভিযানে শুধু জ্বালানি তেল জব্দই নয়, অবৈধ মজুত ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৫৩টি মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং মোট ৭৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

উদ্ধার করা জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ডিজেল, যার পরিমাণ ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ লিটার। এছাড়া ৪৬ হাজার ১৪৬ লিটার পেট্রোল এবং ২২ হাজার ৫৩৯ লিটার অকটেন জব্দ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, অবৈধ চক্রগুলো বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি মজুত ও বাজারে সংকট তৈরির চেষ্টা করছিল।

নিচে অভিযানের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—

বিষয়পরিমাণ
মোট অভিযান৩,১৬৮টি
মোট মামলা১,০৫৩টি
কারাদণ্ড১৬ জন
মোট উদ্ধার জ্বালানি২,০৮,৬৫০ লিটার
ডিজেল উদ্ধার১,৩৯,৯৬৫ লিটার
পেট্রোল উদ্ধার৪৬,১৪৬ লিটার
অকটেন উদ্ধার২২,৫৩৯ লিটার
জরিমানা আদায়৭৫,১৬,০০০ টাকা

মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী আরও জানান, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা বর্তমানে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কোনো অবস্থাতেই যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো না যায়, সে জন্য নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এছাড়া অবৈধ জ্বালানি মজুত ও পাচারের তথ্য প্রদানকে উৎসাহিত করতে সরকার পুরস্কার ব্যবস্থা চালু করেছে। নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদানকারীদের সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষও এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।

সরকার প্রতিটি জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করেছে, যারা নিয়মিতভাবে জ্বালানি ডিপো, পেট্রোল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় নজরদারি করছে। একই সঙ্গে জনগণের জন্য আলাদা যোগাযোগ নম্বর চালু করা হয়েছে, যাতে সহজেই অনিয়মের তথ্য জানানো যায়।

অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ ডিপোগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অবৈধ চক্রের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।